কেন প্রোডিউসারের টাকা নষ্ট করেছেন বরুণ? কড়া ধমক বাবা ডেভিড ধাওয়ানের

কিন্তু ডেভিড ধাওয়ানের কাজের প্রতি প্যাশন আর মানসিক জেদ ছিল দেখার মতো। শরীরের সব শক্তি যখন প্রায় শেষ, তখনও হাসপাতালের বিছানাতে শুয়ে শুয়েই তিনি সিনেমার ক্ষতি নিয়ে ভাবছিলেন। বরুণের কথায়, "বাবা আমাকে স্পষ্ট বলেছিলেন- গিয়ে কাজ করো। প্রোডিউসারের টাকা খুব দামি, সেটা নষ্ট করার অধিকার তোমার নেই।"

কেন প্রোডিউসারের টাকা নষ্ট করেছেন বরুণ? কড়া ধমক বাবা ডেভিড ধাওয়ানের
Image Credit source: Aalok Soni/HT via Getty Images

Mar 27, 2026 | 2:39 PM

বাবার শরীর অত্যন্ত খারাপ। হাসপাতালের আইসিইউ-তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন প্রবীণ পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান। বাইরে অসহায় হয়ে বসে আছেন দুই ছেলে- বরুণ আর রোহিত। ঠিক সেই কঠিন মুহূর্তেই কাচের ওপার থেকে ধেয়ে আসে এক অদ্ভুত নির্দেশ। যা শুনে থমকে গিয়েছিলেন বরুণ ধাওয়ান নিজেও। অসুস্থ বাবা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “এখানে বসে না থেকে কাজে যাও, প্রোডিউসারের টাকা নষ্ট করবে না!”
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জীবনের এই কঠিনতম অধ্যায়ের কথা ভাগ করে নিয়েছেন বলিউডের হার্টথ্রব বরুণ। অভিনেতা জানান, আইসিইউ-র সেই পরিবেশ আর বাবার শারীরিক অবস্থা দেখে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন অভিনেতা, অসহায় বোধও করছিলেন

কিন্তু ডেভিড ধাওয়ানের কাজের প্রতি প্যাশন আর মানসিক জেদ ছিল দেখার মতো। শরীরের সব শক্তি যখন প্রায় শেষ, তখনও হাসপাতালের বিছানাতে শুয়ে শুয়েই তিনি সিনেমার ক্ষতি নিয়ে ভাবছিলেন। বরুণের কথায়, “বাবা আমাকে স্পষ্ট বলেছিলেন- গিয়ে কাজ করো। প্রোডিউসারের টাকা খুব দামি, সেটা নষ্ট করার অধিকার তোমার নেই।”

বাবার সেই জেদই যেন বরুণের ভেতরে নতুন শক্তির সঞ্চার করেছিল। অভিনেতা জানান, ওই অবস্থাতেও তিনি শুটিং ফ্লোরে ফিরে গিয়েছিলেন। একা নন, সঙ্গে ছিলেন দাদা রোহিতও। সেদিন পূজা হেগড়ে এবং মৃণাল ঠাকুরের সঙ্গে একটি রোমান্টিক কমেডির শুটিং ছিল। সহ-অভিনেত্রী মৃণালও সেই সময় বরুণকে মানসিকভাবে অনেক সাহায্য করেছিলেন বলে জানান অভিনেতা।

শুধুমাত্র নিজের পরিবার নয়, এই আড্ডায় বন্ধু অর্জুন কাপুরের ট্রোল হওয়া নিয়েও মুখ খুলেছেন বরুণ। আজকাল নেটদুনিয়ায় তারকাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা যেন জলভাতে পরিণত হয়েছে। অর্জুন কাপুরকে নিয়ে বারবার সোশাল মিডিয়ায় ধেয়ে আসে অশালীন ট্রোল। সেই নিয়ে অভিনেতা বলেন, “মজা করা এক জিনিস, আর কাউকে ছোট করার জন্য ব্যক্তিগত আক্রমণ করা একেবারে আলাদা ব্যাপার। আমরা পাবলিক ফিগার, আমাদের কাজের সমালোচনা মানুষ করবেনই, সেটা মেনে নেওয়াই আমাদের পেশার ধর্ম। কিন্তু বর্তমানে টাকা দিয়ে যেভাবে নেতিবাচক ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়, সেটা সত্যিই অন্যায়।”

প্রসঙ্গত বরুণকে আগামী দিনে দেখা যাবে ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’ ছবিতে। অ্যাকশন-প্যাকড ‘বর্ডার ২’-তে নিজের দাপট দেখানোর পর এবার ফের চেনা ছন্দে ফিরছেন তিনি। বাবার সেই ‘কড়া শাসনের’ শিক্ষা যে আজও বরুণকে পেশাদারিত্বের শীর্ষে ধরে রেখেছে, তা তাঁর প্রতিটি কথাতেই স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

Follow Us