দাউদের ঔরসে মন্দাকিনী এক পুত্রের মা! কেন আজও এই প্রেম কাহিনী বলিউডে ‘নিষিদ্ধ’?
মন্দাকিনী ও দাউদের সম্পর্কের গুঞ্জন প্রথমবার দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে যখন শারজায় একটি ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে তাঁদের একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়। সেই ছবি সংবাদপত্রের পাতায় আসতেই শুরু হয় কাটাছেঁড়া। গুঞ্জন রটেছিল, দাউদ ইব্রাহিমের কলকাঠি নাড়াতেই একের পর এক বড় ছবিতে সুযোগ পাচ্ছিলেন এই অভিনেত্রী।

১৯৮৫ সাল। রাজ কাপুরের ‘রাম তেরি গঙ্গা ময়লি’ ছবি মুক্তি পেতেই রাতারাতি নীল চোখের এক তরুণীর জাদুতে মজেছিল গোটা ভারত। নাম তাঁর মন্দাকিনী। কিন্তু আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার মাঝেই হঠাৎ এমন এক খবর সামনে আসে, যা স্তম্ভিত করে দিয়েছিল বলিউড থেকে পুলিশ প্রশাসনকেও। ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে মন্দাকিনীর নাম জড়িয়ে তৈরি হয় এক রহস্যময় প্রেমের উপাখ্যান।
মন্দাকিনী ও দাউদের সম্পর্কের গুঞ্জন প্রথমবার দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে যখন শারজায় একটি ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে তাঁদের একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়। সেই ছবি সংবাদপত্রের পাতায় আসতেই শুরু হয় কাটাছেঁড়া। গুঞ্জন রটেছিল, দাউদ ইব্রাহিমের কলকাঠি নাড়াতেই একের পর এক বড় ছবিতে সুযোগ পাচ্ছিলেন এই অভিনেত্রী। এমনকি দাউদ তাঁকে দুবাইয়ের বাংলোয় রাজকীয় হালে লুকিয়ে রেখেছিলেন বলেও দাবি করা হয়।

দাউদের সঙ্গে প্রেমের জল্পনা মন্দাকিনীর কেরিয়ারকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছিল। সেই সময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বলিউডের যোগাযোগ ছিল এক খোলা রহস্য। শোনা যায়, দাউদ ইব্রাহিম এই নায়িকার প্রেমে এতটাই পাগল ছিলেন যে, তাঁকে পেতে ছবির পরিচালক ও প্রযোজকদের ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হতো। যদিও বছর তিনেক আগে এক সাক্ষাৎকারে মন্দাকিনী এই সমস্ত দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে বলেন, “আমি শারজায় ক্রিকেট দেখতে গিয়েছিলাম আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো। সেখানেই আলাপ হয়েছিল। কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনও প্রেম বা বিয়ে হয়নি।”
পুলিশি জেরা আর বারবার আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নাম জড়ানোয় মানসিক অবসাদে ভুগেছিলেন অভিনেত্রী। নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই বলিউড থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নেন তিনি। পরবর্তীতে প্রাক্তন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ডক্টর কাগিউর টি রিনপোচে ঠাকুরকে বিয়ে করে শান্তিতে সংসার শুরু করেন মন্দাকিনী। বর্তমানে মুম্বইতে থাকলেও বলিউডের সেই ঝকঝকে দুনিয়া আর দাউদ ইব্রাহিমের সেই কালিমালিপ্ত অধ্যায় থেকে তিনি কয়েক আলোকবর্ষ দূরে।
গোয়েন্দাদের দাবি ছিল, দাউদ ইব্রাহিম ও মন্দাকিনীর নাকি একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। তবে অভিনেত্রী বারবারই এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
