
রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’ ছবির টিজার মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই নেটপাড়ায় সমালোচনার ঝড় বইছে। কেউ বলছেন ভিএফএক্স খুব দুর্বল, কেউ আবার তুলনা করছেন ভিডিয়ো গেমের সঙ্গে। এই বিতর্কের মাঝেই এবার আসরে নামলেন বলিউডের ‘গ্রিক গড’ হৃতিক রোশন। ভিএফএক্স নিয়ে দর্শকদের তিনি সাফ জানালেন, স্রেফ ‘বাস্তবসম্মত’ নয় বলে কোনও কাজকে খারাপ বলা সাজে না। তাঁর মতে, নির্মাতারা অনেক সময় বাস্তব নয়, বরং রূপকথার গল্প বলতে চান।
ভিএফএক্স নিয়ে হৃতিকের প্যাশন ছোট থেকেই নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছেন, মাত্র ১১ বছর বয়সে লন্ডনে ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’ দেখার পর থেকেই তিনি এই ধরণের ছবির প্রেমে পড়েন। বাবার ভিএইচএস প্লেয়ারে বারবার ফ্রেম থামিয়ে তিনি দেখতেন কীভাবে স্পেশাল এফেক্টস তৈরি করা হয়। নিজের পকেটের পয়সা জমিয়ে বই আনিয়েছিলেন এই বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য। তাই ভিএফএক্স যে তিনি বেশ ভালোই বোঝেন, এমনটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন হৃতিক।
হৃতিক অকপটে স্বীকার করেছেন যে, খারাপ ভিএফএক্স দেখা সত্যিই যন্ত্রণাদায়ক। বিশেষ করে যখন নিজের কোনও ছবিতে তা থাকে (হয়তো তিনি নাম না করেই ‘আদিপুরুষ’ বা সাম্প্রতিক কিছু কাজের ট্রোলিংয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন)। তবে ‘রামায়ণ’-এর ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন
নীতেশ তিওয়ারি বা নাগ অশ্বিনদের (কাল্কি নির্মাতা) মতো মানুষরা বড় রিস্ক নিচ্ছেন যাতে দর্শকরা নতুন কিছু দেখতে পান।
হৃতিকের দাবি, যদি কোনও ছবি ‘ফটো-রিয়েলিস্টিক’ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা না পারে, তবেই তাকে খারাপ বলা যায়। কিন্তু ‘রামায়ণ’ যদি গল্পের খাতিরে রূপকথার বা স্টোরিবুক স্টাইল বেছে নেয়, তবে তাকে বাস্তব নয় কেন—এই যুক্তিতে কটুক্তি করা ঠিক নয়।
নির্মাতারা কোনও নির্দিষ্ট শৈলী বেছে নিলে তা দর্শকের পছন্দের সঙ্গে না-ও মিলতে পারে। কিন্তু তা বলে সেটাকে ‘খারাপ’ বলা ভুল।
রণবীর কাপুর অভিনীত এই ছবিতে সীতার চরিত্রে রয়েছেন সাই পল্লবী এবং রাবণ হিসেবে দেখা যাবে কন্নড় সুপারস্টার যশকে। এ ছাড়াও সানি দেওল (হনুমান), রবি দুবে (লক্ষ্মণ) এবং কাজল আগরওয়াল ও রাকুল প্রীত সিংয়ের মতো তারকারা রয়েছেন। হৃতিক দর্শকদের পরামর্শ দিয়েছেন, “পরের বার যখন কোনও ভিএফএক্স দেখবেন, তখন শুধু জিজ্ঞেস করবেন না এটা কি আসল? বরং এটা ভাবুন যে গল্পের খাতিরে কি এটা ঠিক ছিল?” দুই ভাগে মুক্তি পাবে এই সিনেমা। প্রথম কিস্তি আসছে চলতি বছরের দিওয়ালিতে এবং দ্বিতীয়টি ২০২৭ সালে।