Imran Khan: বাঙালি হিন্দু পরিবারের ছেলে ইমরান খান! আমির খানের ভাগ্নের এই পরিচয় জানলে অবাক হবেন
Aamir Khan nephew Imran Khan: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান। আর এখানেই ঘটে বিপত্তি। কারণ, অভিনেতা আদতে ভারতীয় নাগরিক নন। বিদেশি নাগরিক হয়েও এ দেশের রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করায় ২০২৫ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স আইনের ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে।

দেশ জুড়ে চর্চায় এখন আমির খানের ভাগ্নে তথা অভিনেতা ইমরান খান। ‘জানে তু… ইয়া জানে না’ ছবির সুবাদে একসময়ে তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে ঝড় তোলা এই তারকাকে এবার দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল মুম্বই পুলিশ। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে। কিন্তু আচমকা কেন এই কড়া পদক্ষেপ? পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান। আর এখানেই ঘটে বিপত্তি। কারণ, অভিনেতা আদতে ভারতীয় নাগরিক নন। বিদেশি নাগরিক হয়েও এ দেশের রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করায় ২০২৫ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স আইনের ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে।
আমির খানের ভাগ্নে হিসেবে পরিচিত হলেও, ছোট থেকেই ইমরানের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তাঁর পারিবারিক শিকড় এবং জীবনে রয়েছে প্রচুর টানাপোড়েনের গল্প। ইমরানের বাবা অনিল পাল পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। আইআইটি-র প্রাক্তনী অনিল কর্মসূত্রে আমেরিকার বাসিন্দা। ইমরানের বাবা বাঙালি এবং তাঁর আসল পদবি ‘পাল’। অন্যদিকে, ইমরানের মা নুঝত খান একজন মনোবিদ। ইমরান যখন খুব ছোট, তখনই তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, মায়ের সঙ্গেই বড় হয়ে ওঠেন তিনি। এমনকি নিজের নামের সঙ্গে মায়ের পদবি ‘খান’ যুক্ত করার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন অভিনেতা। পরবর্তীকালে অভিনেতা রাজা জুতশির সঙ্গেও তাঁর মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
বাবার পদবি ‘পাল’ ব্যবহার না করা প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইমরান জানিয়েছিলেন, এর পেছনে কোনও ধর্মীয় কারণ নেই। তাঁর বাবা নুঝত খানকে বিয়ে করার আগেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে তিনি কখনওই মাথা ঘামাননি। ইমরানের স্পষ্ট কথা, “আমি পদবি নিয়ে কখনও ভাবিনি। আসলে আমি আমার মায়ের কাছেই বড় হয়েছি, আর এটাই একমাত্র কারণ।”
শৈশবের একটা বড় অংশ উটিতে কাটানোর পর বেঙ্গালুরুর বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করেন ইমরান। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকা যাওয়ার পরই বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। অভিনেতার বাবা পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি। এদিকে বাবার বাঙালি শিকড়ের সূত্রে বাংলার সঙ্গে এক সুক্ষ্ম যোগসূত্র রয়ে গেছে ইমরানের।
পরিবারের দিক থেকে বিচার করলে, ইমরানের মায়ের পরিবার ও বলিপাড়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর দাদু ছিলেন কিংবদন্তি প্রযোজক-পরিচালক নাসির হোসেন (যিনি ‘ইয়াদো কি বারাত’ এবং ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’-এর মতো কালজয়ী ছবি উপহার দিয়েছেন)। আমির খানের বাবা তাহির হোসেন ছিলেন নাসির হোসেনের ভাই। সেই সূত্রেই আমির খানের সঙ্গে ইমরানের মামাতো-ভাগ্নের সম্পর্ক তৈরি হয়, যদিও রক্ত সম্পর্কের বিচারে আমির এবং ইমরানের মা আদতে খুড়তুতো ভাইবোন।
ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছেন অভিনেতা। ২০১১ সালে অবন্তিকা মালিক খানকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ইমরান। তাঁদের ইমারা নামের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে ২০১৯ সালে দীর্ঘদিনের সেই সম্পর্কেও ছেদ পড়ে এবং বিবাহবিচ্ছেদের পথ বেছে নেন তাঁরা। রুপোলি পর্দা থেকে বহু আগেই দূরে সরে যাওয়া ইমরান খান এবার এক সম্পূর্ণ অন্য কারণে খবরের শিরোনামে চলে এলেন।
