
নন্দিনী দত্ত (Nandini Dutta) এবং রাজবীরের সমীকরণ নিয়ে এবার চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিগ বস বাংলার অন্দরমহলে। শনিবার ‘দাদার দরবার’ পর্বে রীতিমতো তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গিয়েছে রাজবীরকে কেন্দ্র করে। রাজবীরের এই আগ্রাসী আচরণের নেপথ্যে কি তবে নন্দিনীর কোনও উস্কানি কাজ করছে? এমন চাঞ্চল্যকর প্রশ্নই তুুললেন খোদ সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
কী ঘটেছে বিগ বস বাংলার ঘরে?
এদিন পর্বের একেবারে শুরু থেকেই যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ছিলেন দাদা। রাজবীর এবং দুর্নিবারকে তাঁদের আচরণের জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেন তিনি। দাদা সাফ জানিয়ে দেন, আর একবার নিয়মের সামান্য খেলাপ হলে সোজা বিগ বসের ঘর থেকে তাঁদের বের করে দেওয়া হবে। এরপর জীতু কমলের সঙ্গে রাজবীরের ঝামেলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। জীতুকে অসম্মান করা এবং তাঁর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় রাজবীরকে কড়া ভাষায় ধমক দেন সৌরভ। দাদা তাঁকে বুঝিয়ে বলেন, জীতু আসলে রাজবীরকে বড় ঝামেলা থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন, অথচ রাজবীর উলটে তাঁর সঙ্গেই খারাপ ব্যবহার করেছেন। শুধু তাই নয়, বিগ বসের ঘরে খাবার নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগেও এদিন দাদার কাছে ধমক খেতে হয় রাজবীরকে।
এরপরই উঠে আসে আসল চমক। দাদার স্পষ্ট অভিযোগ, রাজবীর নিজের বুদ্ধি দিয়ে নয়, বরং পুরোপুরি নন্দিনীর কথায় প্রভাবিত হয়ে চলছেন। একমাত্র নন্দিনীর কারণেই জীতু সহ বাড়ির অন্যান্য সবার সঙ্গে নিজের ভালো সম্পর্ক নষ্ট করছেন রাজবীর। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সরাসরি নন্দিনীকে নির্দেশ দেন, রাজবীরকে যেন তাঁর নিজের মতো গেম প্ল্যান তৈরি করতে দেওয়া হয়। যদিও নন্দিনী নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে অনেক সাফাই দেন। কিন্তু দাদা বাড়ির বাকি সদস্যদের কাছে জানতে চান, রাজবীর কার দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হন, নন্দিনী নাকি জীতু? কেউ বলেন নন্দিনীর নাম আবার কেউ বলেন জীতুর নাম।
এত কড়া হুঁশিয়ারির পরও অবশ্য বিগ বসের ঘরের পরিস্থিতি বিন্দুমাত্র শান্ত হয়নি। পর্বের শেষদিকে ফের জীতু আর রাজবীরের মধ্যে বিশাল বচসা শুরু হয়। নন্দিনীর সঙ্গে একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির মাঝে রাজবীর আচমকাই নাক গলান। এতে জীতু ভীষণ রেগে যান এবং কটাক্ষ করে বলেন যে, রাজবীরের বয়স অত্যন্ত কম, তাই তাঁর বরং পুতুল নিয়ে খেলা উচিত। এই কথায় যেন আগুনে ঘি পড়ে! আরও মেজাজ হারান রাজবীর। তুমুল তর্কাতর্কি করতে করতে তাঁরা দুজনেই বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, দুজনের মধ্যে চূড়ান্ত ধাক্কাধাক্কিও শুরু হয়ে যায়। বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা তাঁদের আটকাতে ছুটে গেলেও কেউ কারও কোনও কথা শোনেননি।
সবশেষে এই ভয়ংকর বিশৃঙ্খলার পর দাদা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। জীতু এবং রাজবীর, দুজনের আচরণেই ভীষণ বিরক্ত হন সৌরভ। তিনি সোজাসুজি রাজবীরকে প্রশ্ন করেন, তিনি আদৌ এই শোয়ে থাকতে চান কি না। এত বোঝানোর পরেও এমন উগ্র আচরণ কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন। সব মিলিয়ে এদিনের পর্বে ছিল শুধুই বিশৃঙ্খলা আর টানটান উত্তেজনা।