
রাজনীতির ময়দান নয়। বাংলা ধারাবাহিক। তবে নায়ক-নায়িকার নিত্য ঝামেলায় সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল। জীতু কমল আর দিতিপ্রিয়া রায়ের মতবিরোধের কথা, একেবারে শুরুতে দিতিপ্রিয়াই একটা ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন। তারপর থেকে এই সমীকরণ ঠিক হয়েছে বলে মনে হয় না।
কখনও একজন-অন্যজনের সমর্থনে ফেসবুক পোস্ট লেখেন। আবার কখনও দেখা যায়, একে-অন্যের মুখ দেখতে সমস্যা, এমন পরিস্থিতি। সম্প্রতি ঝামেলা বাড়ে। প্রযোজনা সংস্থার অফিসে জীতু নাকি দিতিপ্রিয়ার সঙ্গে এক ঘরে বসে মিটিং পর্যন্ত করতে চাননি। প্রযোজনা সংস্থা সেই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, ধারাবাহিকে থাকবেন দিতিপ্রিয়া। জীতুর সমস্যা থাকলে, তাঁকে রাখা হবে না। অন্য এক অভিনেতার সঙ্গে প্রযোজনা সংস্থা মিটিং করেছিল বলে খবর। তিনি অবশ্য জানিয়ে দেন, এই ধারাবাহিক করবেন না।
২০ নভেম্বর রাতের দিকে, ফেসবুকে জীতুর চমকপ্রদ ঘোষণা। তিনি লিখলেন, ”২০০৮ থেকে আমি ক্যামেরার সামনে কাজ শুরু করি। ২০০৮ থেকে আজ ২০২৫ এর শেষ লগ্ন পর্যন্ত আমি যতটুক প্রতিষ্ঠা পেয়েছি তার ৮০% ক্রেডিট আমাদের টেকনিশিয়ান দাদা-বন্ধুদের। বাড়িয়ে বলছি না বা বিনয় দেখাচ্ছি না। সেটা আমার ফ্লোরে এসে টেকনিশিয়ানদের জিজ্ঞেস করুন। বিশেষত, টিভির কাজে কোনও কোনও চরিত্র ব্যাপকভাবে মানুষের মনে জায়গা করে নেয় আর সেখানে মহিলা চরিত্র-এর সংখ্যাই বেশি।কিছু কিছু ব্যতিক্রম পুরুষ চরিত্র তৈরি হয় যেমন-সাধক বামাক্ষ্যাপা, অরণ্য সিংহ রায়, মল্লার সেন ইত্যাদি। তেমনই জি বাংলা এবং এস ভি এফ-এর প্রযোজনায়, অমিত সেনগুপ্তর পরিচালনায় ”আর্য সিংহ রায়” চরিত্রটি বহুদিন বাদে পুরুষ চরিত্র হিসেবে দারুণ ভাবে জায়গা করে নিয়েছে মানুষের মনে। এর পুরো ক্রেডিট তো লেখক, প্রযোজক,পরিচালকের আর সর্বোপরি আমার ভগবান দর্শকের। যাই হোক ভনিতা না করে বলি, শুধুমাত্র আমার টেকনিশিয়ানরা এবং আমার ভগবান দর্শকদের কথা মাথায় রেখে আমি আবারও ”চিরদিনই তুমি যে আমার” প্রজেক্টটিতে জয়েন করতে বাধ্য হলাম। আশা রাখি আর কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটবে না। একই ভাবে আবারও সুন্দরভাবে আপনাদের মনোরঞ্জন করবো বলে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হলাম। হ্যাঁ আমি আবার কল টাইম পেয়েছি।”
জীতুর এই পোস্টের পর টলিপাড়ায় নানা প্রশ্ন। জীতু-দিতিপ্রিয়া কি একসঙ্গে শুটিং করবেন? দিতিপ্রিয়া কি রোম্যান্টিক দৃশ্য করবেন জীতুর সঙ্গে? এত চর্চার পর এই ধারাবাহিক কি বেঙ্গল টপার হতে পারবে? উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে।