Kanchan Mullik: ‘টোটোর লাইসেন্স, লরি চালাচ্ছে…’ শ্রীময়ীকে স্ত্রী হিসেবে পেয়ে কেমন লাগছে কাঞ্চনের?
Kanchan Mullik on Sreemoyee Chattoraj: সম্প্রতি টিভি নাইন বাংলার পডকাস্ট 'অপ্রকাশিত'তে এসে শ্রীময়ীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার অনুভূতি এবং তাঁদের কঠিন সময়ের নানা অজানা কথা খোলামেলা ভাবে শেয়ার করেছেন খোদ অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক। এই পডকাস্টে শ্রীময়ীকে পাশে রেখেই তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ কাঞ্চন।

টলিপাড়ার অন্যতম আলোচিত এবং চর্চিত জুটি কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টরাজ। বয়সের ব্যবধান থেকে শুরু করে নানান ব্যক্তিগত সমীকরণ— সব মিলিয়ে এই জুটিকে ঘিরে ট্রোলের ঝড় লেগেই থাকে। তবে শত কটাক্ষ আর সমালোচনার পরেও নিজেদের মতো করে সুখের সংসার গুছিয়ে নিয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি টিভি নাইন বাংলার পডকাস্ট ‘অপ্রকাশিত’তে এসে শ্রীময়ীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার অনুভূতি এবং তাঁদের কঠিন সময়ের নানা অজানা কথা খোলামেলা ভাবে শেয়ার করেছেন খোদ অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক। এই পডকাস্টে শ্রীময়ীকে পাশে রেখেই তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ কাঞ্চন।
একসময়ে কেরিয়ারের স্ট্রাগল আর ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনে একদম একা হয়ে পড়েছিলেন কাঞ্চন। ইন্ডাস্ট্রিতে কানাঘুষো শোনা যেত, কাঞ্চনের জ্বর হলেও ওষুধ খাইয়ে দেওয়ার মতো কেউ পাশে ছিল না তাঁর। সবার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। বাড়ির জানলা পর্যন্ত খুলতেন না, টানা ৭৪ ঘণ্টা ঘরবন্দি থাকার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। সেই একাকী জীবনের অন্ধকার কাটিয়ে কাঞ্চনের জীবনে নতুন বসন্ত হয়ে আসেন শ্রীময়ী চট্টরাজ।
বয়সের ফারাক কিংবা তৃতীয় বিয়ে— কাঞ্চন-শ্রীময়ীর সম্পর্ক নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ শুরু থেকেই সোচ্চার। ট্রোলারদের কটাক্ষ নিয়ে কাঞ্চন নিজেই বললেন, তাঁকে শুনতে হয়েছিল— ‘টোটোর লাইসেন্স, লরি চালাচ্ছে…’-এর মতো মন্তব্যও। এমনকী, মালদ্বীপে হানিমুনের ছবি বা রোগা পা নিয়ে ট্রোলের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তবে এসব নেতিবাচক মন্তব্যকে বরাবরই বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন এই দম্পতি।
দেখুন ‘অপ্রকাশিত’—
তাহলে জীবনে শ্রীময়ী আসার পর ঠিক কতটা বদলাল কাঞ্চনের পৃথিবী?
অভিনেতার সাফ জবাব, ”শ্রীময়ী সত্যিই উৎসব। স্ত্রী এখন পাশে আছে বলেই ভালো কথা বলছি না। এটাই সত্যি। একটা সময় আমি ৭৪ ঘণ্টা বাড়ি থেকে বের হইনি। বাড়ির জানলাও খুলতাম না। তখন সঙ্গী ছিল আমার দুই সারমেয় পোষ্য। আর শ্রীময়ী। ওই সময়টা এমন পরিস্থিতি হয়েছিল যে আমি একা থাকতে ভালোবাসতাম। সব জায়গা থেকেই একটু গুটিয়ে গিয়েছিলাম। শ্রীময়ী সেই সময় আমাকে বলেছিল, আমি কিন্তু একা বাঁচতে পারি না। সেখান থেকে যে সবাইকে নিয়ে বাঁচতে হবে, একা বাঁচা যায় না, সেটা শ্রীময়ী এসে শিখিয়েছে। এখনও শেখায়। আমার অনেক আত্মীয়দের কাছ থেকেও গুটিয়ে গিয়েছিলাম। শ্রীময়ীই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে রিইউনাইটেড করেছে। কামানের মুখে কিন্তু শ্রীময়ীই দাঁড়িয়ে। কেননা, প্রথম থেকেই আমাদের বিয়েটায় বড় দুটো প্রশ্ন, শ্রীময়ী আমার থেকে এতটা ছোটো, ও আমার তৃতীয় স্ত্রী। তাহলে সে যদি আত্মীয়দের ফোন করে, তাহলে তাঁরা বিষয়টা কীরকমভাবে নেবে, তা ফেস শ্রীময়ীকেই করতে হয়েছিল। সেখানে শ্রীময়ী নিজের শিরদাঁড়া সোজা করে, তাঁদের বলেছিল, আপনারা আসুন, আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই। আমি দেখেছি, যাঁদের বলেছিল, তাঁরা সবাই এসেছিল। সবাইকে নিয়ে চলতে হবে, ওর এই মনোভাবটা আমার কাছে খুব বড় পাওনা।”
