শ্যুটিং সেটে অভিনেত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ, জনপ্রিয় পরিচালককে মাঝরাতে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ!

ঘটনাটি কয়েক মাস আগের। ওই তরুণী অভিনেত্রী পুলিশের কাছে বয়ান দিয়েছেন যে, একটি সিনেমার শ্যুটিং চলাকালীন পরিচালক তাঁকে আলোচনার নাম করে নিজের ক্যারাভানে ডাকেন। অভিযোগ, সেখানেই তাঁকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে যৌন হেনস্থা করার চেষ্টা করেন পরিচালক।

শ্যুটিং সেটে অভিনেত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ, জনপ্রিয় পরিচালককে মাঝরাতে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ!

Apr 01, 2026 | 1:55 PM

এক জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে শ্যুটিং সেটে যৌন হেনস্থার অভিযোগ! এই গুরুতর অভিযোগে দক্ষিণ ভারতের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক রঞ্জিতকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ইদুক্কি জেলা থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে কেরালাজুড়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে এই ঘটনায়। অভিযোগকারী অভিনেত্রীর দাবি, কেরল চলচ্চিত্র দুনিয়ার সেই জনপ্রিয় পরিচালক তাঁকে কাজের অছিলায় ক্যারাভানে ডেকে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছিলেন।

ক্যারাভানে ঠিক কী হয়েছিল?

ঘটনাটি কয়েক মাস আগের। ওই তরুণী অভিনেত্রী পুলিশের কাছে বয়ান দিয়েছেন যে, একটি সিনেমার শ্যুটিং চলাকালীন পরিচালক তাঁকে আলোচনার নাম করে নিজের ক্যারাভানে ডাকেন। অভিযোগ, সেখানেই তাঁকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে যৌন হেনস্থা করার চেষ্টা করেন পরিচালক। গত সোমবার কোচি সিটি পুলিশের কাছে এই নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই অভিনেত্রী। তাঁর বয়ান রেকর্ড করার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপরই পুলিশি অভিযানে থোদুপুঝা এলাকা থেকে পাকড়াও করা হয় অভিযুক্ত পরিচালক রঞ্জিতকে।

গ্রেফতারের পরই পরিচালক রঞ্জিতকে ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবনে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। তবে ঘটনার মোড় ঘোরে মাঝরাতে। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীনই হঠাৎ ‘শারীরিক অস্বস্তি’র কথা জানান তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে এরনাকুলাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযোগ উঠলেও আইনি লড়াইয়ে তিনি রেহাই পেয়েছিলেন। কিন্তু এবারের অভিযোগের গুরুত্ব ও পুলিশের তৎপরতা তাঁকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

এই ঘটনা নতুন করে উসকে দিয়েছে বিচারপতি হেমা কমিটির সেই বিতর্কিত রিপোর্টকে। মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতে মহিলাদের সুরক্ষা ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের আধিপত্য নিয়ে ওই রিপোর্টে যে কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে এসেছিল, তাতে রঞ্জিতের নামও ছিল। জানা গিয়েছে, এর আগে এক বাঙালি অভিনেত্রীও এই পরিচালকের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন। ২০০৯ সালে ‘পালেরি মাণিক্যম’ ছবির সেটে শ্লীলতাহানির সেই পুরনো ক্ষত এখনও ভোলেনি কেউই। তবে এবারের অভিযোগটি পরিচালককে বড়সড় আইনি গেরোয় ফেলতে চলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

কেরল সরকার ও পুলিশ ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিকেই আড়াল করা হবে না। মন্ত্রী সাজি চেরিয়ান জানিয়েছেন, সরকার নির্যাতিতার সঙ্গেই রয়েছে। এখন দেখার, এই গ্রেফতারির পর কেরালা চলচ্চিত্র জগতের আর কোন কোন অন্ধকার দিক সামনে আসে।

Follow Us