
বলিউডের পর্দায় যখনই কোনও সমকামী চরিত্র আসে, হয় তাকে নিয়ে মস্করা করা হয়, নয়তো তাকে কোনও একটা ‘বড় সমস্যা’ হিসেবে দেখানো হয়। কেন একজন রূপান্তরকামী বা সমকামী মানুষ আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেন না সিনেমার গল্পে? এই কড়া প্রশ্নটাই তুলেছেন অভিনেত্রী কঙ্কনা সেন শর্মা। তাঁর সাফ কথা, বলিউডের চশমাটা বড্ড বেশি পুরনো হয়ে গিয়েছে।
কী বলেছেন অভিনেত্রী?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেছেন যে আমাদের চারপাশে সব রকমের মানুষ আছে। কিন্তু বাস্তব গল্প সিনেমায় গেলেই ছবিটা বদলে যায়। তাঁর মতে, বলিউডের কাছে ‘আসল মানুষ’ মানেই সে একজন এমন পুরুষ হবে এবং সে কেবল মেয়েদেরই ভালোবাসবে। এই গণ্ডির বাইরে কেউ বেরোলেই তাকে হয় হাসির পাত্র বানানো হয়, না হলে একটা ‘সামাজিক ইস্যু’র তকমা দিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের মতো তাদের যে আবেগ বা রোজকার ঝামেলা থাকতে পারে, সেটা যেন পরিচালক-প্রযোজকরা ভুলেই যান।
নেটফ্লিক্সের নতুন ছবি ‘অ্যাকিউজড’ (Accused)-এ কঙ্কনা অভিনয় করছেন একজন ডাক্তার গীতিকার চরিত্রে। তাঁর প্রেমিকা মীরার চরিত্রে আছেন প্রতিভা রান্টা। অভিনেত্রী জানিয়েছেন এই ছবির বড় পাওনা হল, এখানে তাদের সমকামী পরিচয়টাকে কোনো ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং গীতিকা যখন তাঁর কাজে যৌন হেনস্থার অভিযোগে ফেঁসে যান, তখন তাঁর সংসার আর সম্মান কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে, সেটাই গল্পের প্রেক্ষাপট। কঙ্কনা বলছেন, “আমরা সমকামী চরিত্র তখনই দেখি যখন সেটা নিয়ে কোনও সমস্যা নিয়ে তৈরি হয়। কিন্তু এই ছবি সেই পথে হাঁটেনি।”
কঙ্কনা মনে করিয়ে দিয়েছেন, কয়েক বছর আগেও সমকামী মানুষদের কেবল জোকার হিসেবে ব্যবহার করা হত ছবিতে। আজও সেই ভাবধারা পুরোপুরি যায়নি। যতক্ষণ না সিনেমার গল্পে এই মানুষগুলো ‘স্বাভাবিক’ ভাবে জায়গা পাচ্ছে, ততক্ষণ বৈচিত্র্যের বড় বড় কথা বলা বৃথা। দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনে কঙ্কনা সবসময়ই একটু অন্যরকম কাজ বেছে নিতে পছন্দ করেন। এবার ‘অ্যাকিউজড’-এর মাধ্যমে তিনি কি বলিউডের এই পুরনো চিন্তাধারা বদলে দিতে পারবেন? উত্তর দেবে সময়।