AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

৯২ বছরে থামল আশা ভোঁসলের ‘ঝলমলে’ সফর: শোকস্তব্ধ এ আর রহমান থেকে শ্রেয়া, শঙ্কর

সুরকার এ আর রহমান একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “তিনি নিজের কণ্ঠস্বর নিয়ে চিরকাল আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। কী অসাধারণ একজন শিল্পী!” অন্যদিকে, সুরকার শঙ্কর মহাদেবন বলেছেন, “তিনি আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে রইলেন।”

৯২ বছরে থামল আশা ভোঁসলের ‘ঝলমলে’ সফর: শোকস্তব্ধ এ আর রহমান থেকে শ্রেয়া, শঙ্কর
১২ এপ্রিল দুপুরে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন ‘আশা ভোঁসলে’।
| Updated on: Apr 12, 2026 | 5:22 PM
Share

সুরের মায়াজালে আট দশক ধরে মাতিয়ে রেখেছিলেন গোটা বিশ্বকে। যাঁর গলার স্বরে কখনও ছিল চঞ্চল কিশোরীর হিল্লোল, কখনও আবার বিরহী মনের গভীর আর্তনাদ। ভারতীয় সংগীত জগতের সেই প্রবাদপ্রতিম নক্ষত্র আশা ভোঁসলে প্রয়াত। রবিবার মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ৯২ বছর বয়সি এই কিংবদন্তি। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান হল।

গত ১১ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে ১২ এপ্রিল দুপুরে চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন ‘আশা ভোঁসলে’। সোমবার শিবাজি পার্কে বিকেল ৪টের সময় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত তাঁর মরদেহ শায়িত থাকবে নিজ বাসভবনে।

আশা ভোঁসলের প্রয়াণে কার্যত ভাষা হারিয়েছে গোটা ইন্ডাস্ট্রি। শ্রেয়া ঘোষাল এক দীর্ঘ আবেগী নোটে লিখেছেন, “আজ আমরা এমন এক কণ্ঠস্বরকে হারালাম যা কয়েক প্রজন্মকে পথ দেখিয়েছে। আশা ভোঁসলে শুধু কিংবদন্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন অসীম। তাঁর বহুমুখী প্রতিভা আমাদের সংগীতের আত্মার অংশ। আমরা সত্যিই ভাগ্যবান যে তাঁর মতো এক প্রতিভাকে চোখের সামনে দেখার সুযোগ পেয়েছি।”

সুরকার এ আর রহমান একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “তিনি নিজের কণ্ঠস্বর নিয়ে চিরকাল আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। কী অসাধারণ একজন শিল্পী!” অন্যদিকে, সুরকার শঙ্কর মহাদেবন বলেছেন, “তিনি আমাদের হৃদয়ে অমর হয়ে রইলেন।”

View this post on Instagram

A post shared by ARR (@arrahman)

সুরকার সেলিম মার্চেন্ট তাঁর বার্তায় লিখেছেন, “একটি যুগের শেষ হয় না, তা প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। প্রতিটি সুরে প্রাণ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আশা জি।” প্রথম ইন্ডিয়ান আইডল অভিজিৎ সাওয়ান্ত বলেন, “কিংবদন্তিরা কখনও সত্যিই চলে যান না। আজীবন সুর উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। ওম শান্তি।”

সিবিএফসি চেয়ারম্যান তথা গীতিকার প্রসূন জোশী অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে জানান, “আশা জির প্রয়াণে আমরা এক আইকনিক কণ্ঠ হারালাম। তাঁর গায়কিতে এমন এক টেক্সচার এবং গভীরতা ছিল যা প্রতিটি গানকে জীবন্ত করে তুলত। আমি ভাগ্যবান যে তাঁর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলাম।” সেই সঙ্গে তিনি তাঁর লেখা সেই বিখ্যাত কবিতার পঙক্তিটিও আওড়েছেন, যেখানে আশাজিকে তিনি এক চঞ্চল মেয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। গায়িকা বৈশালী সামন্তের কথায়, “তিনি শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত গেয়ে গিয়েছেন। এমন কোনও আবেগ নেই যা তাঁর গানে ধরা পড়েনি।”

১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম। মাত্র ১০ বছর বয়সে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে ট্রেনের আওয়াজের মধ্যে প্রথম গান রেকর্ড করেছিলেন তিনি। সেই শুরু, তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০টিরও বেশি ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তুলেছিলেন তিনি। ‘দম মারো দম’ থেকে ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, কিংবা ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’— কিশোর কুমার, মান্না দে বা মহম্মত রফিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গান গেয়েছেন তিনি। ভারত সরকার তাঁকে ‘দাদাসাহেব ফালকে’ এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছিল। সুরের আকাশ আজ ম্লান, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কয়েক হাজার গান অমর হয়ে থাকবে প্রতিটি ভারতীয়র হৃদয়ে।

Follow Us