Family Planning in Bengal: আর ৭-৮ সন্তান নয় বাংলায়, বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে শুভেন্দুর সরকার?
Samik on suvendu: আবার উত্তরপ্রদেশ সরকার ২০২১ সালে একটি ড্রাফট বিল বা খসড়া বিল প্রকাশ করে, যার নাম ছিল 'দ্য উত্তরপ্রদেশ পপুলেশন (কন্ট্রোল, স্ট্যাবিলাইজেশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) বিল, ২০২১'। এই নিয়ম না মানলে একজন ব্যক্তি সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন না এবং চাকরিতে থাকলে পদোন্নতি (Promotion) আটকে যাবে।

কলকাতা: রাজ্যে পালা-বদলের পর নতুন-নতুন পদক্ষেপ করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। এবার কি উত্তরপ্রদেশ অসমের দেখানো পথেই কি হাঁটতে চলেছে বাংলা? জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিল আনতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার? পরিবার পিছু জন্ম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ করবে এবার রাজ্য? এই রকমই একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনীতির অন্দরে। কারণ, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকে রাজনীতির অন্দরে ফের নতুন করে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
শমীক ভট্টাচার্য কী আবেদন করেছেন?
বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, “জন্মসংখ্যা তো নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। দশ কোটি জনসংখ্যা হতে চলল পশ্চিমবঙ্গে। একদিকে অনুপ্রবেশ অন্যদিকে উদ্বাস্তু। আমরা যদি নিজেরাই সাতটা আটটা করে এই সংখ্যা বৃদ্ধিতে মদত দিয়ে থাকি, এখানে জন্ম নিয়ন্ত্রণ বাধ্যতামূলক করা দরকার।” তিনি আরও বলেন, “এটা প্রয়োজন আছে, মানুষ চায়। এই কথা আমরা বলেছি। কিন্তু সরকার তো বিজেপির সরকার নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই বলেছি কথাটা। আবেদন করেছি ব্যাপারটা ভেবে দেখবেন।”
বাংলায় জনসংখ্যা কত?
ভারতের ‘ন্যাশনাল কমিশন অন পপুলেশন-এর টেকনিক্যাল গ্রুপের’ সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৬ লক্ষ (১০০.৬৩ মিলিয়ন)। জনসংখ্যার দিক থেকে বিচার করলেন উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও বিহারের পরেই রয়েছে বাংলা। ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বিজেপি বারেবারে অভিযোগ করেছে অনুপ্রবেশকারীরা বাংলায় ঢুকে জনবিন্যাস বদলে দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই অনুপ্রবেশকারীদের হঠাতে পদক্ষেপও করেছে শুভেন্দুর সরকার। জেলায়-জেলায় তৈরি হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। এর মধ্যেই শমীকের এই মন্তব্য নিতান্তই তাৎপর্যপূর্ণ।
অসম ও উত্তরপ্রদেশের জন্ম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কী পদক্ষেপ
ভারতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অসম (Assam) এবং উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) দুই রাজ্যই মূলত ‘টু-চাইল্ড পলিসি’ বা দুই সন্তান নীতি-র ওপর জোর দিয়েছে। এই নীতিগুলোর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পদক্ষেপও করেছে তারা। অসম সরকারের নীতি অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে তিনি অসম সরকারের কোনও চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন না। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের জন্যও এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে, তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST), চা বাগান শ্রমিক এবং মটক ও মোরান সম্প্রদায়ের জন্য এই ঊর্ধ্বসীমা শিথিল করে ৩টি সন্তান পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে।
আবার উত্তরপ্রদেশ সরকার ২০২১ সালে একটি ড্রাফট বিল বা খসড়া বিল প্রকাশ করে, যার নাম ছিল ‘দ্য উত্তরপ্রদেশ পপুলেশন (কন্ট্রোল, স্ট্যাবিলাইজেশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার) বিল, ২০২১’। এই নিয়ম না মানলে একজন ব্যক্তি সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন না এবং চাকরিতে থাকলে পদোন্নতি (Promotion) আটকে যাবে।
ফলত, উত্তর প্রদেশ আর অসমের পথেই কি এবার বাংলা হাঁটতে চলেছে? সেই প্রশ্নই উঠছে এবার।
