Maa Mashi Kitchen: প্রয়াত ‘মা মাসি কিচেন’-এর মেসোমশাই! কী হয়েছিল? জানিয়ে দিলেন স্ত্রী সুমিতা বসু
Bengali Food Vlog Facebook Page: সাধারণ উপকরণে তৈরি সুস্বাদু পুরনো দিনের পথ আর সঙ্গে সদাহাস্য সুমিতা বসুর মিষ্টি ব্যবহার— এই দিয়েই পেজটি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তবে সেই রান্নার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল, পরম মমতায় স্বামীর পছন্দের খাবার তৈরি করা এবং স্ত্রী-র সেই রান্না পরম তৃপ্তি ভরে খাওয়া জ্যোতিপ্রসাদ বসুর চিরচেনা অমলিন হাসি।

দেখনদারি আর আধুনিকতার চাকচিক্য দূরে সরিয়ে, কেবল আন্তরিকতা ও খাঁটি ঘরোয়া স্বাদের জোরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অগণিত মানুষের মন জয় করে নিয়েছিল ‘মা মাসি কিচেন’। সাধারণ উপকরণে তৈরি সুস্বাদু পুরনো দিনের পথ আর সঙ্গে সদাহাস্য সুমিতা বসুর মিষ্টি ব্যবহার— এই দিয়েই পেজটি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তবে সেই রান্নার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল, পরম মমতায় স্বামীর পছন্দের খাবার তৈরি করা এবং স্ত্রী-র সেই রান্না পরম তৃপ্তি ভরে খাওয়া জ্যোতিপ্রসাদ বসুর চিরচেনা অমলিন হাসি।
কিন্তু রবিবারের সকালে ‘মা মাসি কিচেন’-এর অনুরাগীদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক হৃদয়বিদারক খবর। দীর্ঘ ৪৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন জ্যোতিপ্রসাদ বসু। শনিবার রাতে নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই শোকাচ্ছন্ন খবরটি অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন সুমিতা দেবী।
তিনি জানান, গত ১৩ অগস্ট চিরদিনের মতো পথচলা থামে জ্যোতিপ্রসাদবাবুর। বিষাদগ্রস্ত সুমিতাদেবী ফেসবুকে লেখেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার সমস্ত বন্ধুদের খুবই দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, গত ১৩ অগস্ট আমার ৪৭ বছরের সঙ্গী জ্যোতিপ্রসাদ বসু চিরতরে আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। মানসিক বিপর্যয়ের কারণে আপনাদের এই খবরটি জানাতে কিছুটা দেরি হয়ে গেল, কারণ সেই সময়ে জানানোর মতো অবস্থায় আমি ছিলাম না।”
দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর সিওপিডি (COPD)-র সমস্যায় ভুগছিলেন জ্যোতিপ্রসাদবাবু। ভিডিয়োতেও প্রায়শই তাঁকে নাকে অক্সিজেনের নল পরিহিত অবস্থায় দেখা যেত। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ অগস্ট শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে শেষরক্ষা হয়নি, জীবনের লড়াইয়ে হেরে যান তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ার দেখনদারির জগতে এই প্রবীণ দম্পতির নিঃশব্দ ভালোবাসা মানুষকে এক পরম স্বস্তি দিত। ফলে এই আচমকা প্রয়াণের খবরে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন পেজের হাজার হাজার ফলোয়ার। সুমিতাদেবীর পোস্টে নিজের শোক প্রকাশ করে এক অনুরাগী লিখেছেন, “মাসিমা, খবরটা শোনার পর কী লেখা উচিত বুঝে উঠতে পারছি না। বর্তমানের বাহ্যিক দেখনদারির ভিড়ে আপনাদের এমন সুন্দর করে একে-অপরকে আগলে রাখার দৃশ্য মন ভরিয়ে দিত।”
অন্য এক অনুরাগী আবেগপ্লুত হয়ে লিখেছেন, “মেসোমশাইকে যখন আপনি ওর পছন্দের রান্না পরিবেশন করতেন, আর উনি উৎসাহ নিয়ে তা মুখে তুলতেন— ওর চোখের আনন্দটা ক্যামেরাতেও স্পষ্ট দেখা যেত। পোস্টটি দেখে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছি না।”
স্বামীর প্রিয় পদ রেঁধে আর পরম ভালোবাসায় তা পরিবেশন করার মধ্য দিয়ে সুমিতা ও জ্যোতিপ্রসাদ বসু যে অকৃত্রিম প্রেমের নিদর্শন রেখে গিয়েছেন, তা ‘মা মাসি কিচেন’-এর দর্শকদের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।
