Nana Patekar: কাঁধে ঝোলা, সাদামাটা ধুতি-পাঞ্জাবি, যেভাবে খরা-বিধ্বস্ত কৃষকদের ‘মসিহা’ হয়ে উঠেছিলেন নানা পটেকর
Nana Patekar drought relief work: সেই চকমকে বলয় থেকে অনেক দূরে, মহারাষ্ট্রের লাতুর বা মারাঠওয়াড়ার রোদে পোড়া মাটি আর চৌচির হওয়া খেতের ধারে দাঁড়ালে যাঁকে সবথেকে বেশি আপন মনে হয়, তিনি নানা পটেকর। সেলুলয়েডের পর্দায় যাঁর চোখ দিয়ে আগুন ঝরে, বাস্তব জীবনে তিনিই খরা-পীড়্ত কৃষক পরিবারের কাছে এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয় ছিলেন।

স্টুডিও পাড়ার ফ্লুরোসেন্ট লাইট, ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইট আর তারকাখ্যাতির গ্ল্যামার—এই চেনা দুনিয়াটাই তো একজন সফল অভিনেতার কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা। কিন্তু সেই চকমকে বলয় থেকে অনেক দূরে, মহারাষ্ট্রের লাতুর বা মারাঠওয়াড়ার রোদে পোড়া মাটি আর চৌচির হওয়া খেতের ধারে দাঁড়ালে যাঁকে সবথেকে বেশি আপন মনে হয়, তিনি নানা পটেকর। সেলুলয়েডের পর্দায় যাঁর চোখ দিয়ে আগুন ঝরে, বাস্তব জীবনে তিনিই খরা-পীড়্ত কৃষক পরিবারের কাছে এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয় ছিলেন।
রুপোলি পর্দায় নানা পটেকর মানেই এক চিরকালীন ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’। ক্ষোভে ফেটে পড়া কণ্ঠস্বর, মুখের চেনা গম্ভীর রেখা আর অনমনীয় ভঙ্গি—দর্শক যাঁকে বছরের পর বছর ধরে বাণিজ্যিক ও সমান্তরাল ছবির আইকনিক চরিত্রে দেখে এসেছে। কিন্তু পর্দার এই রাগী মানুষটিই ঘরের বাইরে পা রাখলে সম্পূর্ণ অন্য এক সত্তা। সেখানে কোনও মেকআপের আড়ম্বর নেই, নেই কোনও দামি প্রসাধনের চাকচিক্য। সাদামাটা ধুতি-পাঞ্জাবি বা সাধারণ পোশাক, কাঁধে ঝোলা আর মুখে একরাশ আন্তরিকতা নিয়ে তিনি হেঁটে বেড়াতেন সেই মানুষগুলোর পাশে, যাঁদের বেঁচে থাকার লড়াইটা প্রতিদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার সমান।
মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে যখনই খরার কোপ পড়েছে, আকাশ থেকে এক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য হাপিত্যেশ করে চেয়েছে কৃষকদের বুক চিরে বেরিয়ে আসা হাহাকার, তখনই সবার আগে ত্রাতার ভূমিকায় সামনে এসেছিলেন নানা পটেকর। শুধু অর্থ সাহায্য করেই নিজের দায়িত্ব সেরে ক্ষান্ত হননি তিনি; নিজে হাতে তুলে নিয়েছিলেন ত্রাণের বোঝা। আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া কৃষক পরিবারগুলোর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের হাত ধরেছিলেন, সান্ত্বনা দিয়েছিলেন এবং তাদের বেঁচে থাকার নতুন অর্থ খুঁজে দিয়েছিলেন ত্রিরঙ্গা ছবির সেই রাগী অভিনেতা।
অভিনেতা মকরান্দ অনুপসারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘নাম ফাউন্ডেশন’ (Naam Foundation)। এই সংগঠনের মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের হাজার হাজার খরা-পীড়িত কৃষক পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক স্থায়িত্ব দেওয়ার কাজটি তিনি নীরবে করে গিয়েছেন দিনের পর দিন। কোনও ঢাকঢোল পেটানো নেই, নেই কোনও প্রচারের আলো পাওয়ার মোহ—এ যেন মাটির মানুষের প্রতি মাটির মানুষেরই এক অকৃত্রিম ঋণশোধ।
বলিউডের অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়, নানা পটেকরের ব্যক্তিগত জীবনযাপন কতটা কড়া অনুশাসন আর সাধাসিধেপনায় মোড়া ছিল। মুম্বাইয়ের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের পরিবর্তে তাঁর পছন্দ এক সাধারণ জীবন। জীবনের এই সারল্যই তাঁকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। যখন গোটা দেশ তাঁকে সুপারস্টার হিসেবে কুর্নিশ জানায়, তখন তিনি মহারাষ্ট্রের কোনও এক ধূলিধূসরিত গ্রামে বসে এক প্লেট সাধারণ ডাল-ভাত ভাগ করে খাচ্ছেন সেখানকার খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে—এই দৃশ্যই নানা পটেকরের আসল পরিচয়।
