পাপিয়া হয়ে গেলেন ‘দুর্গা’, দেখতে পাবেন নন্দনে
ছবিটিতে দেবী দুর্গার মহামায়া ও নবদুর্গা রূপে পর্দায় হাজির হচ্ছেন পাপিয়া অধিকারী নিজেই। যদিও দেবীর নয়টি বৈচিত্র্যময় রূপ—শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী এবং সিদ্ধিদাত্রী—এই সব ক'টিতেই তাঁকেই দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ের আগে পর্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে।

রাজনীতি ও অভিনয়ের মেলবন্ধন রুপোলি পর্দায় নতুন নয়, তবে এবার তা এক ভিন্ন মাত্রায় ধরা দিতে চলেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে টলিগঞ্জের প্রশাসনিক ব্যাটন হাতে নেওয়ার পর অভিনেত্রী-বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী এবার ফিরছেন তাঁর চেনা ময়দানে—তবে সম্পূর্ণ নতুন ও পৌরাণিক এক অবতারে। কৃষ্টি ক্রিয়েশনের নিবেদনে এবং সত্যব্রতের পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও সংলাপে তৈরি ছবি ‘নবদুর্গা মাতৃরূপেন সংস্থিতা’-র বিশেষ প্রদর্শনী হতে চলেছে আগামী ২৪ জুলাই, শুক্রবার দুপুর ২টায় নন্দন ৩-এ।
ছবিটিতে দেবী দুর্গার মহামায়া ও নবদুর্গা রূপে পর্দায় হাজির হচ্ছেন পাপিয়া অধিকারী নিজেই। যদিও দেবীর নয়টি বৈচিত্র্যময় রূপ—শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী এবং সিদ্ধিদাত্রী—এই সব ক’টিতেই তাঁকেই দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ের আগে পর্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। তবে মুক্তির আগেই প্রকাশিত তাঁর ‘দুর্গা’ রূপের প্রথম ঝলক ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে সিনেমা প্রেমীদের।
সঙ্গীতের দিক থেকেও ছবিটি বেশ বর্ণময়। কুন্দন সাহা ও শ্বেতা গুপ্তর সুরসংযোজনায় গান গেয়েছেন ভজন সম্রাট অনুপ জলোটা, পণ্ডিত তুষার দত্ত, রিয়া এবং নীলিমা। স্তোত্র পাঠে রয়েছেন শুভ দাশগুপ্ত, অর্পণ কুমার শর্মা, নিবেদিতা সেন ও বিল্লদল চট্টোপাধ্যায়।

এখানে উল্লেখ্য, শুধু বড়পর্দায় প্রত্যাবর্তনই নয়, টলিপাড়ার ভেতরে জমে থাকা বছরের পর বছর ধরে চলা ‘সিন্ডিকেট’ ও নোংরা রাজনীতি ভাঙতেও শক্ত হাতে হাল ধরেছেন এই বিধায়ক-অভিনেত্রী। উল্লেখ্য, বিগত দিনগুলোতে স্বরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বাধীন ফেডারেশনের একচ্ছত্র আধিপত্য ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের কারণে টলিউডে কাজের পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছিল। স্বৈরাচারী ফরমান জারি করে একটার পর একটা কাজ বন্ধ করা, স্বাধীনচেতা পরিচালকদের কোণঠাসা করা এবং প্রযোজকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলার যে ইতিহাস তৈরি হয়েছিল, তাতে ব্রাত্য হয়ে পড়েছিল ‘ডিরেক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’ (DAEI)।
ক্ষমতায় আসার পরই টলিপাড়ার সেই পুরনো ক্ষত সারানোর কাজে নেমেছেন পাপিয়া অধিকারী। তৎকালীন সময়ে অহেতুক রাজনৈতিক চাপ ও বয়কটের ভয়ে যাঁরা গিল্ড ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, সেই সমস্ত অপমানিত ও ব্রাত্য পরিচালকদের সসম্মানে পুরনো সংগঠনে ফিরে আসার জন্য সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ফলে ২৪ জুলাই নন্দনে একদিকে যেমন পাপিয়া অধিকারীর সাংস্কৃতিক পুনর্জন্মের সাক্ষী থাকবে টলিপাড়া, অন্যদিকে তেমনই সুদিনের আশায় নতুন করে বুক বাঁধছে গোটা ইন্ডাস্ট্রি।
