
কলকাতা: একটা মৃত্যু তুলে দিচ্ছে অনেক প্রশ্ন। সিরিয়ালের শুটিং চলাকালীন আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাহুলের মৃত্যুতে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঠিক কী হয়েছিল তালসারির সমুদ্র সৈকতে, তা নিয়ে নানা বয়ান উঠে আসছে। আর এতেই তৈরি হচ্ছে ধন্ধ, উঠছে প্রশ্ন। এরই মধ্যে লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বয়ানে আরও রহস্য তৈরি হল। ঠিক কী বলেছেন তিনি?
রাহুলের মৃত্যুর খবরে স্তম্ভিত, শোকস্তব্ধ লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এতটাই শোকাহত, কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। রাহুল ধারাবাহিকের চরিত্রটা পেয়ে খুব খুশি ছিল…গভীর জলে যেতে হবে, এমন শুটিং ছিল না, এটুকুই বলতে পারি।”
যিনি স্ক্রিপ্ট লিখেছেন, তিনি বলছেন গভীর জলে যাওয়ার শুটিং ছিল না। গোড়ালি অবধি জলে হাঁটার দৃশ্য ছিল। তাহলে কেন সমুদ্রে গেলেন রাহুল? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অমিল।
কার্যনির্বাহী প্রযোজক বা এগজিকিউটিভ প্রডিউসার শান্তনু নন্দীও একই কথা বলছেন। তিনি দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। ইউনিটের মাধ্যমেই তিনি দুর্ঘটনার খবর পান। ওই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ” মেইন শুটিং হয়ে গিয়েছিল। শুধু একটা ড্রোন শট বাকি ছিল। সিনিয়র আর্টিস্টরা কলকাতার জন্য রওনাও দিয়ে দিয়েছিল। ড্রোন শট নেওয়া হত গোড়ালি অবধি জলে। এক পা, দুই পা এগোচ্ছিল, পিছোচ্ছিল। ইউনিট থেকেও বলা হয়, আর এগিয়ো না। সেই সময়ই একটা বড় ঢেউ আসে। ভারসাম্য হারিয়ে দুজনেই পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ইউনিটের লোকজনেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে, গামছা দিয়ে আটকিয়ে শ্বেতাকে জল থেকে তোলা হয়। রাহুল আরেকটু এগিয়ে গিয়েছিলেন। সেফটি বোটে থাকা কয়েকজন ঝাঁপ দিয়ে, দড়ি দিয়ে রাহুলকে উদ্ধার করে।”
তাঁর বক্তব্য, পাড়ে তোলার পরই সঙ্গে সঙ্গে জল বের করা হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যখন জল থেকে তোলা হয়েছিল রাহুলকে, তখনও তাঁর জ্ঞান ছিল। কথা বলছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, রাহুল আর নেই।