
বলিউডের হোলি মানেই এখনকার দিনে ঝলমলে সব ‘পেজ থ্রি’ পার্টি। কিন্তু কাপুর খানদানের সেই ঐতিহাসিক হোলি উদযাপনের কথা আজও থাকে চর্চায়। আরকে স্টুডিওর সেই রাজকীয় জলসা যেখানে একসময় গোটা বলিউডকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসত, সেই পার্টিই নাকি রণবীর কাপুরের কাছে ছিল রীতিমতো একটা দুঃস্বপ্ন! সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রাজ কাপুরের হোলি পার্টি নিয়ে বিস্ফোরক স্মৃতিচারণ করলেন রণবীর।
ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ ইন্ডিয়ার মঞ্চে পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রণবীর জানান, ছোটবেলায় ওই পার্টিগুলো তাঁর কাছে বেশ ভয়ের ছিল। রণবীরের কথায়, “আমি তখন খুবই ছোট। চারপাশের পরিবেশটা আমার কাছে খুব একটা আনন্দের ছিল না। চারদিকে সবাই একদম মিশমিশে কালো বা গাঢ় রঙে মাখামাখি হয়ে থাকত। এমনকি অনেককে তো চ্যাংদোলা করে ট্রাকে পর্যন্ত ছুড়ে ফেলে দেওয়া হত! সব মিলিয়ে আমার কাছে ওটা ছিল এক ভয়ানক অভিজ্ঞতা।”
ওই অনুষ্ঠানে পরিচালক রাহুল রাওয়াইলও রণবীরের কথায় সায় দিয়ে জানান, আগেকার দিনের সেই উন্মাদনা ছিল ভয়ানক। নীল-কালো-হলুদ রঙে চেনার উপায় থাকত না, কে, কোন তারকা। সকাল থেকেই শুরু হয়ে যেত সেই উন্মাদনা।
তবে ভয়ের স্মৃতি থাকলেও ওই উৎসবের একটি ইতিবাচক দিক রণবীরের মনে গেঁথে গিয়েছে। তিনি জানান, রাজ কাপুরের সেই পার্টিতে কেবল অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ভিড় থাকত না। সেখানে লাইটম্যান থেকে শুরু করে প্রোডাকশন বয় সবাই আমন্ত্রিত থাকতেন। ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি স্তরের মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে উৎসবে মাততেন। আভিজাত্যের লড়াই সরিয়ে রেখে সেটি ছিল ইন্ডাস্ট্রির মিলনমেলা।
কেন বন্ধ হল এই ঐতিহাসিক উদযাপন?
প্রশ্ন উঠতেই পারে, যে পার্টিতে গোটা ইন্ডাস্ট্রি এক হত, তা বন্ধ হল কেন? রাহুল রাওয়াইল জানান, উৎসবের জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে পৌঁছল, তখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল। যে কেউ সেই পার্টিতে ঢুকে পড়ছিল। ভিড় সামলানো এবং নিরাপত্তা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল আয়োজকদের পক্ষে। আর সেই কারণেই চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় আরকে স্টুডিওর সেই ঐতিহাসিক হোলি পার্টি।
বর্তমানে রণবীরের হাতে বড় বড় সব প্রজেক্ট। সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এ আলিয়া ভাট ও ভিকি কৌশলের সঙ্গে দেখা যাবে তাঁকে। এছাড়া ‘অ্যানিম্যাল’ সিক্যুয়েল এবং নীতেশ তিওয়ারির বহু প্রতীক্ষিত ‘রামায়ণ’ ছবিতে রামের ভূমিকায় কাজ করছেন তিনি। ২০২৬-এর দিওয়ালিতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে রামায়ণের।