”ক্ষত হোক’, ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়’…কেমন হল ‘অনেকদিন পর’?
'যে জানলাগুলোর আকাশ ছিল' যে পরিচালকের হাত ধরে মঞ্চস্থ হয়, সেই সৌরভ পালোধী এবার এক আকাশের নীচে নিয়ে এলেন কিছু চরিত্রকে। এই আকাশে রোদ-বৃষ্টি সবই আছে। তবে এক আকাশের নীচে যে পরিবার গড়ে ওঠে, সেখানে মাথায় ছাতা ধরার লোকটিও পাওয়া যায়। পরিচালক তাঁর সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় নাটকটির সিগনেচার রেখেই এই গল্পটি বলেছেন।

‘যে জানলাগুলোর আকাশ ছিল’ যে পরিচালকের হাত ধরে মঞ্চস্থ হয়, সেই সৌরভ পালোধী এবার এক আকাশের নীচে নিয়ে এলেন কিছু চরিত্রকে। এই আকাশে রোদ-বৃষ্টি সবই আছে। তবে এক আকাশের নীচে যে পরিবার গড়ে ওঠে, সেখানে মাথায় ছাতা ধরার লোকটিও পাওয়া যায়। পরিচালক তাঁর সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় নাটকটির সিগনেচার রেখেই এই গল্পটি বলেছেন।
ভারি মজার বিষয় হল, এই গল্পকে এক-একটি মূল চরিত্রের নিরিখে দেখলে, এক-একরকমভাবে বলতে হবে। একটি বাড়ি আছে। যেখানে নানা বন্ধুর বাস। সেই বাড়ির কর্তার নিরিখে দেখলে, এক বাবার গল্প, যার ছেলে কাছে না থাকার ক্ষত দগদগে। আবার বেশ অভাবী পরিবারের এক মেয়ের গল্প হিসাবে দেখা যায়, যার কর্মস্থল ওই বাড়িটি। মেয়েটি (চিত্রাঙ্গদা শতরূপা) সেখানে চাকরি করতে যায়। চাকরিতে যাওয়ার পথে বাসে সে এক সঙ্গী (বিমল গিরি) খুঁজে পায়। যার সঙ্গে এক বাসে যাওয়া, টুকটাক খাওয়া সবাই চলে। কিন্তু সেই সঙ্গী যে মনের কথাটি বলতে চাইছে, তা আর বলে উঠতে পারে না। এদিকে চায়ের দোকানে কেটে যায় অনেকটা সময়।
মেয়েটি যেখানে কাজ করতে যায়, সেটি কি আদৌ বৃদ্ধাশ্রম? নাকি কোনও আশ্রম? এই সিদ্ধান্ত দর্শকের। যাঁর জীবনের আবেগ যেমন, এ ছবি দেখার পর তাঁর ব্যাখ্যা হবে সেরকম। এটুকু বলি, এই ছবির চরিত্রগুলোর মধ্যে আমাদের সকলের জীবনগুলো ঢুকে রয়েছে। ক্ষত-ক্ষতি-লাভ-লোভ সবটা মিলে যাবে ছবির সঙ্গে। জীবনে একটা বার প্রেম হয়েছিল, কিন্তু ভেঙে গিয়েছে, আসবাব সমেত পাড়া ছেড়ে যাওয়ার সময়ে বুক ফেটেছে। বুক ফেটেছে সন্তানের বিদেশ পাড়ি দেওয়ায় চোটে দূরত্বের যে দেওয়াল উঠেছে তাতে। কারও বুক ফেটেছে একাকিত্বে, কারও বুকে কষ্ট সে শিকড়ে ফিরতে পারছে না বলে। কোনও বাবা তাঁর সন্তানকে একটু বেশি সময় পাচ্ছে না, স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না বলে, কেউ আবার, সন্তানের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না, তা বলার জন্য আর স্ত্রীকেই পাচ্ছে না। একটা চরিত্রের সঙ্গে অন্য চরিত্রের ক্ষত মিলে যাওয়ার পর, কীভাবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ম্যাজিক ঘটে, তা সূক্ষ্ম হাতে দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গল্পটিতে।
কষ্টগুলো তো অচেনা নয়। জীবনে দেখি। বড়পর্দায় হাজার বার দেখেছি। তবে এই ছবির জোরের জায়গা হলো, এমন সমস্যা সমাধানের জন্য যে দিশা দেয় গল্পটি, তা আর কিছু বছর পর রক্ত-মাংসের বাস্তব হবে। তাই দূরদর্শিতার নিরিখে প্রশংসার দাবি রাখে ছবিটা। ছবিতে প্রতিটা চরিত্র ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, সমান গুরুত্বপূর্ণ, এবং গুরুত্বপূর্ণ সেখানে যাবতীয় অভিনেতা-অভিনেত্রীর হৃদয় নিংড়ে করা কাজ। সকলে এত ভালো, যে আলাদা করে কে ভালো, তা বলতে হয় না। ‘মেঘেদের নাম’ আর ‘সঙ্গে থাকার গান’ সত্যিই সঙ্গে রাখার মতো। সপ্তক সানাই দাসের সুরে, ‘মেঘেদের নাম’ গানটির প্রতিটা শব্দ মন ছুঁয়ে যায়, দুর্নিবার সাহার গায়কীতে যেন গল্পের সিঁড়ি বেয়ে গভীরে প্রবেশ করি অনেকটা।
যুক্তির হোঁচট বেশ কয়েকটা জায়গায় আছে ছবিটিতে। কেন যে আছে, ভাবলে আফসোস হয়। তবে রূপকে মোড়া ছবিটি, যেমন প্রতিটা মুহূর্তে প্রাণভরে বাঁচার বার্তা দেয়, তেমনই মুহূর্ত বুনতে ব্যস্ত। ছবি যখন শেষ হবে, তখন প্রেমের বৃষ্টি নামবে। প্রেমের বৃষ্টি নামলে, যুক্তি-টুক্তি চুলোয় যায়, তা কে না জানে! এই ছবি মিস করবেন না। একান্ত যদি মিস করেন, তা হলেও জানবেন, কিছু ছবি এমন হয়, যে ছবির কাছে দর্শক প্রথমে না গেলেও, ছবিটি ঠিক একটা সময়ে দর্শকের কাছে চলে আসে।
