Shruti Haasan: ‘আমি চাই পুরুষদেরও পিরিয়ডস হোক!’ কেন একথা বললেন শ্রুতি হাসান?
Shruti Haasan on periods: 'আমি চাই পুরুষদেরও পিরিয়ডস হোক!' কেন একথা বললেন শ্রুতি হাসান? বিশ্বায়নের যুগে দাঁড়িয়েও স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে গিয়ে কালো প্যাকেটের ‘লুকোচুরি’ কিংবা মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন নিয়ে অজ্ঞতা আজও বহাল তবিয়তে রয়েছে। বাইরের অনেক দেশে ঋতুকালীন সময়ে কর্মক্ষেত্রে বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের দেশে এটি নিয়ে কথা বলতেই অনেকে দ্বিধা বোধ করেন। এবার সেই পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন কমল হাসান কন্যা অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান।

আজকের যুগে নারীরা কেবল গৃহকোণেই সীমাবদ্ধ নন, রাজনীতির ময়দান থেকে মহাকাশ গবেষণা—প্রতিটি পেশাতেই পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। তবে কালের নিয়মে আধুনিকতার পালে হাওয়া লাগলেও, সমাজ এখনও ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডস নিয়ে ছুঁতমার্গ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বিশ্বায়নের যুগে দাঁড়িয়েও স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে গিয়ে কালো প্যাকেটের ‘লুকোচুরি’ কিংবা মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন নিয়ে অজ্ঞতা আজও বহাল তবিয়তে রয়েছে। বাইরের অনেক দেশে ঋতুকালীন সময়ে কর্মক্ষেত্রে বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের দেশে এটি নিয়ে কথা বলতেই অনেকে দ্বিধা বোধ করেন। এবার সেই পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন কমল হাসান কন্যা অভিনেত্রী শ্রুতি হাসান।
যেকোনও সামাজিক ইস্যুতে স্পষ্ট ও সোচ্চার মতামত প্রকাশের জন্য শ্রুতি সর্বদাই পরিচিত। সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে ঋতুকালীন তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও পিরিয়ড লিভ (Period Leave) নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। পিরিয়ডসের দিনগুলিতে কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য ছুটির সওয়াল করে শ্রুতি বলেন, “এর একটাই বাস্তব সমাধান রয়েছে। আমি মনে মনে হাজারবার প্রার্থনা করেছি যেন পুরুষদেরও পিরিয়ডস হত! যদি তাই হত, তবে কর্মক্ষেত্রের চুক্তিপত্রে এতদিন পিরিয়ড লিভের বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়ে যেত।” শ্রুতির এই মন্তব্যে সায় দিয়ে সোহা মজা করে যোগ করেন, “পুরুষদের পিরিয়ড হলে তারা হয়তো রক্তপাতের পরিমাণ বা ট্যাম্পনের সাইজ নিয়েও নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু করে দিত!”
সাক্ষাৎকারে নিজের শারীরিক কষ্টের কথা তুলে ধরে শ্রুতি জানান, পিসওএস (PCOS)-এ আক্রান্ত হওয়ার কারণে ঋতুস্রাবের সময় তাঁকে অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। কর্মজীবনের শুরুর দিকে অবশ্য এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে তিনি দ্বিধাবোধ করতেন। তাঁর মনে হতো সমাজ হয়তো এই বিষয়টিকে সহজভাবে নেবে না।
নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর এক বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শ্রুতি বলেন, “একবার শুটিং সেটে দেখলাম আমার এক সহ-অভিনেতা তাঁর হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কথা জানিয়ে সেই অনুযায়ী শুটিংয়ের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করার অনুরোধ জানালেন। তা দেখে আমিও সাহস করে পরিচালককে নিজের পিরিয়ডসের তীব্র যন্ত্রণার কথা জানাই। সেটিই ছিল প্রথমবার কোনও পরিচালকের কাছে আমার এই বিষয়ে মুখ খোলা। পরিচালক অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টি বোঝেন এবং জানান যে তাঁর নিজের মেয়েরও পিরিয়ডসের সময় এমন কষ্ট হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই পিরিয়ডস নিয়ে আমার সংকোচ পুরোপুরি কেটে যায়।”
