ব্যারাকপুরে রাজের রাজত্বের অবসান, নেটদুনিয়ায় ট্রোল হতেই স্বামীর হয়ে কলম ধরলেন শুভশ্রী
গণনাকেন্দ্র থেকে বেরনোর সময় রাজকে লক্ষ্য করে উড়ে এসেছে কাদা, জুতো, আর ধেয়ে এসেছে ‘চোর চোর’ স্লোগান। তবে চরম অপমানের মুখেও মেজাজ না হারিয়ে রাজ যখন স্মিত হাসিতে নিজেকে সংযত রেখেছিলেন, ঠিক তখনই ঢাল হয়ে পাশে পেলেন ঘরনি শুভশ্রীকে।

একুশ থেকে ছাব্বিশ— সময় বদলেছে, বদলেছে রাজনীতির সমীকরণও। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে যে ব্যারাকপুর রাজ চক্রবর্তীকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করেছিল, ছাব্বিশের শেষে সেই চেনা মাঠেই ‘উলোটপুরাণ’। রাজের নির্বাচনী প্রচারে ছায়াসঙ্গী হয়ে রোড-শো মাতানো ‘লেডি সুপারস্টার’ শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় যখন জয়ের আশায় বুক বেঁধেছিলেন, ঠিক তখনই ইভিএম শোনাল অন্য এক ফলাফল। পরাজিত রাজ। ব্যারাকপুরে রাজের রাজত্বের অবসান।
বারাকপুরের গদি হারানোর পর বিদায়ী বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীকে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। গণনাকেন্দ্র থেকে বেরনোর সময় রাজকে লক্ষ্য করে উড়ে এসেছে কাদা, জুতো, আর ধেয়ে এসেছে ‘চোর চোর’ স্লোগান। তবে চরম অপমানের মুখেও মেজাজ না হারিয়ে রাজ যখন স্মিত হাসিতে নিজেকে সংযত রেখেছিলেন, ঠিক তখনই ঢাল হয়ে পাশে পেলেন ঘরনি শুভশ্রীকে। শুভশ্রীর প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠল ‘ভালোবাসা’। সোশ্যাল মিডিয়ায় একগুচ্ছ পারিবারিক মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে এই অভিনেত্রী স্পষ্ট করে দিলেন— দুনিয়ার কাছে হারলেও ঘরের আঙিনায় রাজ আজও অপরাজিত।
View this post on Instagram
ইউভান এবং ইয়ালিনির সঙ্গে রাজের খুনসুটি থেকে শুরু করে দাম্পত্যের নিবিড় মুহূর্ত— সব ছবিতেই ধরা পড়েছে এক অন্য রাজ চক্রবর্তীকে। পোস্টের ক্যাপশনে শুভশ্রী আবেগঘনভাবে লিখেছেন, “আমাদের পরিবারের সুপারহিরো, আমাদের গর্বের জায়গা তুমি। আমাদের প্রিয় সুপারস্টার এবং শান্তির ঠিকানা। তুমিই আমাদের আস্ত একটা পৃথিবী।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজের প্রতি এই প্রেম নিবেদন আসলে সেই সমস্ত ট্রোল আর কটাক্ষের জবাব, যা ব্যারাকপুরের জয়ের পর রাজকে শুনতে হয়েছে। রাজনৈতিক ময়দান থেকে রাজপাট চলে গেলেও, রাজশ্রীর দাম্পত্য যে ‘ব্লকবাস্টার’, শুভশ্রীর এই পোস্ট তারই প্রমাণ।
