
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা টলিপাড়া। রবিবার তালসারি বিচে শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে টলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতার। কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনার পরও টলিপাড়ার চেনা ব্যস্ততা ও শুটিংয়ের নির্ঘণ্টে কোনও বদল না আসায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। তাঁর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে এখন তোলপাড় স্টুডিও পাড়া।
সুদীপ্তা তাঁর দীর্ঘ এবং আবেগঘন পোস্টে একরাশ তিক্ত প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন টলিউডের সেই তথাকথিত ‘একটাই পরিবার’ তকমাটির দিকে। তাঁর প্রশ্ন, যেখানে সামান্য সরকারি অনুষ্ঠান বা অডিটোরিয়ামে ভিড় বাড়াতে নিমেষের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে শুটিং বন্ধ করে দেওয়া যায়, সেখানে এক সহকর্মীর শেষযাত্রায় শামিল হতে কেন আধ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা যায় না? তাঁর মতে তখন এপিসোড ব্যাঙ্কিং বা টেলিকাস্ট আটকে যাওয়ার ভয় থাকে না। অথচ, এক তরুণ সহকর্মীকে শেষ দেখা দেখতে যাওয়ার জন্য যখন এক ঘণ্টা শুটিং বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়, তখনই প্রযোজকদের ক্ষতির আশঙ্কা এবং ব্যাঙ্কিং কমে যাওয়ার ভয় জাঁকিয়ে বসে।
সুদীপ্তা আক্ষেপ করে লিখেছেন, শিল্পী কি তবে কেবলই ‘দুই পয়সার শিল্পী’? একজন রিকশাচালক বা সবজি বিক্রেতার ইউনিয়নও সহকর্মীর মৃত্যুতে দোকান বন্ধ রাখে, কিন্তু শিল্পীদের ক্ষেত্রে সেই সৌজন্যটুকুও কেন দেখা গেল না সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তাঁর মনে।
অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে সহকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে লিখেছেন, হাজার কষ্ট বুকেও লিপস্টিক মেখে প্রেমের অভিনয় চালিয়ে যেতে হয়। কারণ, প্রতিবাদ করলেই ‘ব্যান’ হওয়ার ভয়, কাজ হারানোর আতঙ্ক। সুদীপ্তার ভাষায়, “মনে রেখো তোমার পিছনেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে আরও অনেক শিল্পী, তোমাকে ‘replace’ করার জন্য।” তিনি টলিউডের এই ব্যবস্থাকে একটি লাটাইয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন, তাঁর কথায় যেখানে শিল্পীরা শুধুই ঘুড়ি। কার হাতে লাটাই, তা জানতে চাওয়ার অধিকারটুকুও তাদের নেই।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু কেবল শোক নয়, তৈরি করেছে বিতর্কও। ওড়িশার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটলেও, অনেকে সুরক্ষার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ থেকে শুরু করে জিতু কমল— সকলেই রাহুলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ।