
শুটিং সেট মানেই চিৎকার, লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের হইহট্টগোল থাকবেই। তবে অনুরাগ কাশ্যপের ছবির সেট কিন্তু একেবারেই উল্টো। বিশেষ করে তাঁর আগামী ছবি ‘কেনেডি’-র শুটিং চলাকালীন সেটে এতটাই নিস্তব্ধতা ছিল যে, ফিসফিসানিও শোনা যাচ্ছিল না। কেন এমন ‘ভূতুড়ে’ নীরবতা? তবে কি কোনও গম্ভীর সমস্যা বা ঝগড়া চলছিল? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই রহস্যের পর্দাফাঁস করলেন স্বয়ং সানি লিওন।
অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সেটের এই নীরবতা একেবারেই কোনও নেতিবাচক কারণে ছিল না। বরং এটি ছিল চরম প্রফেশনালিজম বা পেশাদারিত্বের প্রমাণ। অভিনেত্রীর কথায়, “সেটটা সাইলেন্ট ছিল কারণ প্রত্যেকে সেখানে কাজ করতে এসেছিল, গল্প করতে নয়। কেউ ফিসফিস করছিল না, সবাই নিজের কাজে ডুবে ছিল।” সানির মতে, এই শান্ত পরিবেশ তাঁদের মন দিয়ে অভিনয় করতে সাহায্য করেছে। এতটাই চাপের সিডিউলের মধ্য দিয়ে তাঁদের যেতে হচ্ছিল যে কেউ কথা বলারই অবকাশ পাচ্ছিলেন না। ছবির নায়ক রাহুল ভাটও সানির কথায় সায় দিয়েছেন। তাঁর মতে, যারা সিরিয়াসলি সিনেমা বানান, তাঁদের সেটে এমন পরিবেশ থাকাটাই স্বাভাবিক।
অভিনেত্রী আরও জানিয়েছেন যে, এই ছবির জন্য সানিকে যখন বেছে নেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি নিজেই বিশ্বাস করতে পারেননি। এমনকি ওয়ার্কশপ বা মহড়া শুরু হওয়ার পরেও তাঁর মনে এক অদ্ভুত ভয় কাজ করত যদি বাদ পড়ে যান। সানি বলেন, “বিনোদনের দুনিয়াটা খুব অনিশ্চিত। এখানে যেকোনও মুহূর্তে সব বদলে যেতে পারে। প্রথম শটটা দেওয়ার আগে পর্যন্ত আমার মনে হচ্ছিল, আমাকে হয়তো বদলে দেওয়া হবে। শট ওকে হওয়ার পর যখন পরের দৃশ্যের দিকে এগোলাম, তখন মনে হল— যাক, এবার অন্তত আমাকে কেউ রিপ্লেস করবে না!”
গত ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে ZEE5-এ দেখা যাচ্ছে ‘কেনেডি’। গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্য ছেড়ে সানিকে এই ডার্ক থ্রিলারে দেখতে দর্শকরাও মুখিয়ে ছিলেন। মুক্তির পর থেকেই বেশ প্রশংসা পেয়েছে ছবিটি। বহু প্রতিক্ষিত এই ছবি যে দর্শকদের বেশ পছন্দ হয়েছে তার উত্তর সোশ্যল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই বোঝা যাচ্ছে।