Anik Dutta death: অনীক দত্তের মৃত্যুর খবরে হতবাক রুদ্রনীল! কী বললেন?
Bhuter Bhabishyat director death: পরিচালকের রহস্যমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ অভিনেতা। তাঁর সঙ্গে অনীক দত্তের সম্পর্ক ছিল বেশ মজাদার। স্মৃতির পাতা উলটে রুদ্রনীল জানালেন, "অত্যন্ত মর্মান্তিক এই খবর, বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করছে না। এত গুণী একজন পরিচালক, বিজ্ঞাপনে আমি ওঁর সঙ্গে কাজ করেছি। তারপর সিনেমাতেও কাজ করার কথা ছিল, কিন্তু বেশ কিছু কারণে হয়ে ওঠেনি।"

টলিপাড়ায় যেন আছড়ে পড়ল এক অকল্পনীয় শোকের ঢেউ। গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল স্বনামধন্য পরিচালক অনীক দত্তের। যিনি ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ নির্মাণ করে আপামর বাঙালিকে হাসির খোরাক জুগিয়েছিলেন, আজ তাঁর এমন মৃত্যুতে ঘনাচ্ছে গভীর রহস্য। খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই বাকরুদ্ধ গোটা টলিউড। এই আকস্মিক প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না অভিনেতা, বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ।
পরিচালকের রহস্যমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ অভিনেতা। তাঁর সঙ্গে অনীক দত্তের সম্পর্ক ছিল বেশ মজাদার। স্মৃতির পাতা উলটে রুদ্রনীল জানালেন, “অত্যন্ত মর্মান্তিক এই খবর, বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করছে না। এত গুণী একজন পরিচালক, বিজ্ঞাপনে আমি ওঁর সঙ্গে কাজ করেছি। তারপর সিনেমাতেও কাজ করার কথা ছিল, কিন্তু বেশ কিছু কারণে হয়ে ওঠেনি।” অনীক দত্তের নিজস্ব একটা স্টাইল ছিল, যা বরাবরই উপভোগ করতেন রুদ্রনীল। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিনেতা বলেন, “বেশ কাজের মানুষ, যাঁর সঙ্গে ঝগড়া করেও মজা লাগত। অনীক দাকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জিজ্ঞেস করলে, তাঁর উত্তর দেওয়াটাও বেশ মজার ছিল। নিজের মতো, নিজের খেয়ালে থাকতে পছন্দ করতেন।”
তবে এই ঘটনা নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। রুদ্রনীলও চাইছেন প্রকৃত সত্য সামনে আসুক। তাঁর কথায়, “যা শুনছি তা এখনও পর্যন্ত বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করছে না। যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তার আসল সত্যিটা ঠিক কী, পুলিশ তার তদন্ত করুক। পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল। বারবার মনে হচ্ছে, যে খবর শুনছি তা মিথ্যে হলে ভালো হয়।”
জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে হিন্দুস্তান পার্কের নিজের বাড়ির ছাদ থেকেই নিচে পড়ে যান পরিচালক। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, বাড়ির নিচে চাপ চাপ রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে হোমিসাইড শাখাও। গোটা জায়গাটি বর্তমানে পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। অনীক দত্ত মানেই বাংলা সিনেমায় এক অন্য ধারার গল্প বলার কৌশল। ‘বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’ বা ‘অপরাজিত’-এর মতো ছবিতে তিনি বরাবরই নিজের একটা আলাদা সিগনেচার তৈরি করে গিয়েছেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে টলিউড হারাল এক নির্ভীক, স্পষ্টবক্তা ও দূরদর্শী স্রষ্টাকে। পরিচালকের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া এই রহস্যের জট কবে এবং কীভাবে খুলবে, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।
