Violence erupts in Tollygunge: টলিপাড়ায় ধুন্ধুমার! পাপিয়া অধিকারীর পরিবর্তিত সংগঠন ঘোষণার পরদিনই রণক্ষেত্র টালিগঞ্জ, চলল ইটবৃষ্টি ও ডিম ছোড়াছুড়ি
Tollywood Overhaul: রাজ্যে পরিবর্তনের পর টলিপাড়াতেও বড়সড় খোলনলচে বদল। ২৬টি গিল্ড ভেঙে ৪টি করার ঘোষণা বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর। এর পরেই টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও ও সংলগ্ন মাঠে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ইঁট ও ডিম বৃষ্টি। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ।

টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের চেনা সাংগঠনিক সমীকরণ বদলে যাবে, বুধবার ঘোষণা করেন পাপিয়া অধিকারী (Papiya Adhikary)। তারপরই বৃহষ্পতিবার চরম উত্তেজনা ছড়াল টালিগঞ্জে। পুরনো ফেডারেশন ভেঙে নতুন কনফেডারেশন গড়ার ঘোষণার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই রণক্ষেত্রের রূপ নিল টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও চত্বর। কাজ পাওয়া ও পদ ধরে রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বিবাদ, ইটবৃষ্টি এবং ডিম ছোড়াছুড়ির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও প্রাঙ্গণ থেকে ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’ ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ‘ব্যান কালচার’ বন্ধ করতে ২৬টি গিল্ড কমিয়ে মাত্র ৪টি বিভাগে এনে ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশান পিকচার্স অ্যান্ড কালচারাল কনফেডারেশন’ (EIMPCC) গঠন করার কথাও বলে দেন তিনি। পাপিয়া অধিকারী স্পষ্ট জানান, টলিউডে এবার ‘SIR’ (স্ক্রিনিং বা সিলেকশন) হবে এবং কেবল যোগ্য ও বৈধ টেকনিশিয়ানরাই কাজ পাবেন। অযোগ্য ও অবৈধভাবে পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকে পড়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হবে। কিছুজনকে তাঁদের পদ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বিদায়ী সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের জমানার আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারকে রিপোর্ট পাঠানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, জানান পাপিয়া। টলিপাড়ার প্রোডাকশন গিল্ডের সম্পাদক মহম্মদ হাসান, সহ সম্পাদক নিরুপম দে সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পাপিয়ার কাছে সরাসরি অভিযোগ জমা পড়ে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান পাপিয়া।
এই বড়সড় রদবদলের পরেই বৃহস্পতিবার সকালে টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সকাল থেকেই সেখানে গত দিনের আলোচনায় থাকা টেকনিশিয়ানদের দলের লোকরা জোর করে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় বৈঠকটি স্টুডিওর ভেতরে করা সম্ভব হয়নি, বরং ঝামেলা শুরু হয়ে যায় কাছের একটি মাঠে। সেখানে কলাকুশলীদের দুটি পক্ষের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এক পক্ষের দাবি, পদ ধরে রাখতে বিদায়ী নেতারা বহিরাগতদের এনে নোংরামি করছেন। অন্য পক্ষ পাল্টা কটাক্ষ করে বিক্ষোভকারীদের ‘রাত ১২টার পর হয়ে যাওয়া বিজেপি’ বলে স্লোগান দেয়।
বচসা বাড়তে বাড়তে নিমেষের মধ্যে তা হাতাহাতিতে পৌঁছায়। দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইট, পাটকেল এবং ডিম ছুড়তে শুরু করে। এই নজিরবিহীন কাণ্ডে স্টুডিওপাড়ায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার পর টেকনিশিয়ানদের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিদায়ী কর্তাদের বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং টলিপাড়ার অচলাবস্থা কাটাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
