AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Uttam Kumar: উত্তম আর নেই, খবর গেল সুপ্রিয়ার কাছে! তখন ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে কী করছিলেন বেণু?

Uttam Supriya Love Story: সাধারণ মানুষের মুখরোচক জল্পনার ঊর্ধ্বে উঠে এই দুটি মানুষকে যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁরা জানতেন তাঁদের ভালোবাসার গভীরতা কতটা সুগভীর ও পবিত্র ছিল। সেই কারণেই সুচিত্রা সেন থেকে শুরু করে মাধবী মুখোপাধ্যায়—বাংলা চলচ্চিত্রের গুণী ব্যক্তিত্বরা সব সময়ই মহানায়ক ও সুপ্রিয়ার এই বাস্তব জুটিকে গভীর শ্রদ্ধা করে এসেছেন।

Uttam Kumar: উত্তম আর নেই, খবর গেল সুপ্রিয়ার কাছে! তখন ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে কী করছিলেন বেণু?
| Updated on: Sep 29, 2026 | 3:35 PM
Share

উত্তম কুমার ও সুপ্রিয়া চৌধুরীর প্রেম-সম্পর্ক নিয়ে চর্চার শেষ নেই। তবে সাধারণ মানুষের মুখরোচক জল্পনার ঊর্ধ্বে উঠে এই দুটি মানুষকে যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁরা জানতেন তাঁদের ভালোবাসার গভীরতা কতটা সুগভীর ও পবিত্র ছিল। সেই কারণেই সুচিত্রা সেন থেকে শুরু করে মাধবী মুখোপাধ্যায়—বাংলা চলচ্চিত্রের গুণী ব্যক্তিত্বরা সব সময়ই মহানায়ক ও সুপ্রিয়ার এই বাস্তব জুটিকে গভীর শ্রদ্ধা করে এসেছেন।

অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে উত্তম-সুপ্রিয়ার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক। কোনও আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণ ছাড়াই বহুবার ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে পৌঁছে যেতেন মাধবী; ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলত খোশগল্প আর আড্ডা।

তবে ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাইয়ের দিনটি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। মহানায়কের আকস্মিক প্রয়াণে সেদিন গোটা দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষ স্তম্ভিত ও শোকাহত। খবরের সত্যতা পেতেই প্রিয় অভিনেতাকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে ছুটে গিয়েছিলেন মাধবী মুখোপাধ্যায়ও। কিন্তু সেখানে উপস্থিত প্রখ্যাত পরিচালক মৃণাল সেন তাঁকে দেখে বলেন, “তুমি বরং সোজা সুপ্রিয়ার কাছে যাও। ও বাড়িতে একদম একা রয়েছে।”

মৃণাল সেনের কথা শুনে মাধবী যখন ময়রা স্ট্রিটের বাসভবনে গিয়ে পৌঁছন, তখন সেখানে এক থমথমে নিস্তব্ধতা। ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, শোকের আঘাতে আলুথালু বেশে সোফায় বসে রয়েছেন সুপ্রিয়া চৌধুরী। একটানা কেঁদে চলা সুপ্রিয়ার চোখে-মুখে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে প্রিয়জনকে হারানোর এক অপূরণীয় হাহাকার। কোলে আত্মীয়র এক ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে অপলক দৃষ্টিতে দরজার দিকে চেয়ে ছিলেন তিনি—যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে উত্তম আর কোনওদিন ওই দরজা দিয়ে ফিরবেন না!

মাধবীকে ভেতরে ঢুকতে দেখেই সুপ্রিয়া ধীর কণ্ঠে বলে ওঠেন, “উত্তমকে দেখে এলে? এখানে বসো।”

মাধবী কাছে গিয়ে সুপ্রিয়ার কাঁধে হাত রাখতেই অনুধাবন করলেন, শোকের চরম আঘাতে সুপ্রিয়া তখন যেন এক জীবন্ত পাথরে পরিণত হয়েছেন। এরপর আর কোনও কথা হয়নি দু’জনের মধ্যে। দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে দুজন অভিনেত্রী পাশাপাশি বসে রইলেন এক অদ্ভুত নীরবতায়। কোনও ভাষা দিয়েই যে সেই শোকের প্রকাশ সম্ভব ছিল না, তা দুজনই জানতেন।

এক ঘণ্টা পর ময়রা স্ট্রিটের সেই নীরব বাসভবন থেকে বেরিয়ে মাধবী রওনা হন উত্তমের ভবানীপুরের পৈতৃক বাড়ির উদ্দেশে। যেখানে তখন শায়িত ছিল মহানায়কের শেষ নিথর দেহ। বাইরে সাধারণ অনুরাগী ও গুণগ্রাহীদের উপচে পড়া ভিড়, আর ভেতরে স্বজনদের কান্না—সবকিছুর মাঝে দাঁড়িয়ে মাধবীও অপলক চোখে বিদায় জানিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় সহকর্মী ও বন্ধু উত্তম কুমারকে।

Follow Us