প্রয়াত অমিতাভ-শাহরুখদের সহ-অভিনেত্রী

মধু মালহোত্রা হয়তো কোনোদিনই তথাকথিত ‘লিড হিরোইন’ হওয়ার সুযোগ পাননি, কিন্তু আশি ও নব্বইয়ের দশকে তাঁর অভিনয় বুঝিয়ে দিয়েছিল যে চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবেও কতটা শক্তিশালী হওয়া যায়। সুভাষ ঘাইয়ের ‘হিরো’ ছবিতে তাঁর ছোট কিন্তু প্রভাবশালী উপস্থিতি আজও বলিউডের ইতিহাসে উজ্জ্বল।

প্রয়াত অমিতাভ-শাহরুখদের সহ-অভিনেত্রী

Mar 15, 2026 | 5:55 PM

আশির দশকের সেই কাল্ট ক্লাসিক ছবি ‘হিরো’। জ্যাকি শ্রফ আর মীনাক্ষী শেষাদ্রির রসায়নের মাঝেও একটা মুখ আজও দর্শকদের চোখে ভাসে। রেশমার গাওয়া সেই বিখ্যাত গান ‘লম্বি জুদাই’-এর সুরে যে যাযাবর নারীর বিষণ্ণ চাহনি আমজনতার মনে জায়গা করে নিয়েছিল, সেই অভিনেত্রী আর নেই। চলে গেলেন বলিউডের নামজাদা অভিনেত্রী মধু মালহোত্রা। ৭২ বছর বয়সে জীবনের রূপোলি পর্দা থেকে চিরবিদায় নিলেন তিনি।

মধু মালহোত্রা হয়তো কোনোদিনই তথাকথিত ‘লিড হিরোইন’ হওয়ার সুযোগ পাননি, কিন্তু আশি ও নব্বইয়ের দশকে তাঁর অভিনয় বুঝিয়ে দিয়েছিল যে চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবেও কতটা শক্তিশালী হওয়া যায়। সুভাষ ঘাইয়ের ‘হিরো’ ছবিতে তাঁর ছোট কিন্তু প্রভাবশালী উপস্থিতি আজও বলিউডের ইতিহাসে উজ্জ্বল।

Facebook

তাঁর কেরিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, বলিউডের প্রায় প্রত্যেক বড় তারকার সঙ্গেই তিনি পাল্লা দিয়ে কাজ করেছেন। কখনও অমিতাভ বচ্চনের বোন, কখনও আবার শাহরুখ খানের সহ-অভিনেত্রী— প্রতিটা চরিত্রেই তিনি ছিলেন সাবলীল।

১৯৭৯ সালের ‘দ্য গ্রেট গ্যাম্বলার’ ছবিতে তিনি অমিতাভ বচ্চনের বোনের চরিত্রে অভিনয় করে নজর কেড়েছিলেন। শুধু তাই নয়, অমিতাভের ব্লকবাস্টার ছবি ‘সত্তে পে সত্তা’-তেও তাঁর উপস্থিতি ছিল মনে রাখার মতো।

নব্বইয়ের দশকে যখন শাহরুখ খান বা আমির খানরা রাজত্ব শুরু করছেন, তখনও মধুর ভূমিকাও বেশ নজর কেড়েছিল। ১৯৯৩ সালে ‘কিং আঙ্কেল’ ছবিতে তিনি শাহরুখ ও জ্যাকির সঙ্গে কাজ করেন। ১৯৯৮ সালে আমির খান ও রানি মুখোপাধ্যায়ের ‘গুলাম’ ছবিতেও তাঁর চরিত্রটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আশির দশকে ঋষি কাপুরের সুপারহিট ছবি ‘কর্জ’ ছবিতে ‘পিঙ্কি’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও সিনেপ্রেমীরা ভুলতে পারেননি। এছাড়া অনিল কাপুর ও শ্রীদেবী অভিনীত ‘হীর রাঞ্ঝা’ ছবিতেও অনিলের বোনের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে।

মধু মালহোত্রার হাতেখড়ি হয়েছিল ১৯৭৫ সালে র‍্যামসে ব্রাদার্সের হরর ছবি ‘অন্ধেরা’র মাধ্যমে। সেই সময়ে তাঁর বোহেমিয়ান লুক এবং সাবলীল নাচের ভঙ্গি ইন্ডাস্ট্রিতে আলাদা জায়গা করে দিয়েছিল। দীর্ঘ তিন দশকের কেরিয়ারে তিনি বহু হিট ছবির অংশ ছিলেন। তাঁর অভিনীত শেষ ছবি ছিল ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ও বেওয়াফা থি’।

বলিউড আজ একজন প্রতিভাবান শিল্পীকে হারাল, যিনি লাইমলাইটের কেন্দ্রে না থেকেও নিজের কাজ দিয়ে ঠিকই পৌঁছে গিয়েছিলেন দর্শকদের হৃদয়ে। ‘লম্বি জুদাই’-এর সেই বিষণ্ণ সুর এখন তাঁর স্মৃতির সঙ্গেই রয়ে যাবে দর্শকদের মনে।

Follow Us