
সম্প্রতি শুটিং শুরু হয়েছে মহুয়া রায়চৌধুরীর বায়োপিকের। ২৭ মার্চ প্রযোজক রাণা সরকারের নতুন ছবি মহুয়া রায়চৌধুরীর বায়োপিকের শুটিং চলাকালীন ফ্লোরে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যে ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ইমপার দ্বারস্থ হন প্রযোজক। এর পাশাপাশি ফেডারেশনকেও চিঠি দেন। সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে কাজ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সুর ইমপার প্রেসিডেন্ট পিয়া সেনগুপ্তর গলায়। ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের কাছে তদন্তের আর্জি করলেন তাঁরা সাংবাদিক বৈঠকে। প্রোডাকশন ম্যানেজারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তাঁরা।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। শুটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কার্যনির্বাহী প্রযোজক লাইট কেয়ারটেকারদের টাকা বাকি রেখেছেন বলে দাবি কিছুজনের। তাঁরা প্রযোজক রানা সরকারের নতুন ছবির শুটিংয়ে পৌঁছে যান টাকা আদায় করতে। এরপর দু’ পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে যায়। শনিবার সকালেও ঘণ্টা দুই শুটিং বন্ধ ছিল বলে ই-মেল মারফত জানানো হয়েছে টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশনকে।
এদিন ইমপা-র সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত বললেন, ”গতকাল একটি ঘটনা ঘটেছে। প্রযোজকরা নানা রকম সমস্যার মধ্যে দিয়ে ছবি তৈরি করেন। তাঁরা কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কোনও অবস্থায় ফেডারেশনে লাইট কেয়ারটেকার গিল্ডের অ্যাফিলিয়েশন নেই। তাদের দাদাগিরি সহ্য করব কেন? ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট স্বরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসা করব, কীভাবে এই ঘটনা ঘটতে পারে তিনি থাকতে? আমরাই কাজ বন্ধ করে দেব, যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকে। কীভাবে ছবি বানাব? কেউ এসে গায়ে হাত তুলে দেবে! প্রোডাকশন ম্যানেজারের উচিত এই ঘটনা যাতে শুটিং ফ্লোর পর্যন্ত না যায়, তা নিশ্চিত করা। দাদাগিরির মধ্যে কাজ করব না। ফেডারেশন প্রেসিডেন্টের কাছে জিজ্ঞাসা করব, এই ধরনের আচরণ হবে তিনি কি জানতেন? হঠাৎ করে কেন এই ঘটনার মুখোমুখি হতে হল? তিনি থাকার পর প্রথম বার এই ঘটনা! এভাবে চলতে পারে না। এই পরিবেশে কাজ করা সম্ভব নয়। স্বরূপ বিশ্বাস দায়িত্বশীল মানুষ। তিনিও দেখবেন আশা করি। কারও যদি মনে হয়, ইচ্ছাকৃতভাবে টাকা দেব না, সেটাও তো আলোচনা করা উচিত। ইমপা থেকে মেল পাঠাচ্ছি ফেডারেশনকে।” পিয়া যোগ করেন, ”নিজেদের সচেতন হতে হবে যাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়গুলো অত্যাধিক আলোচিত না হয়।”
প্রযোজক রাণা সরকার বললেন, ”গতকাল সমস্যা তৈরি হওয়ার পর পুলিশ এসে সামাল দিয়েছে। বটতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। আমাদের সাথে কারও কোনও সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গে এমন কখনও দেখিনি। আজ সকালে লাইট কেয়ারটেকারদের ভিড় হয়ে যায়। তাঁরা জানান, শুটিং করবেন না। লাইট কেয়ারটেকার গিল্ড ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত নয়, সে কথা ফেডারেশন লিখিত জানিয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে ছবি বানাতে হচ্ছে। ইউনিট মেম্বারদের যদি এই ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়, কাজ বন্ধ করতে হবে।”
রাণা আরও বলেন, ”এটা পরিকল্পিত ঘটনা। ফেডারেশন প্রেসিডেন্টের উচিত তদন্ত করে বার করা ঠিক কী হয়েছে। প্রোডাকশন ম্যানেজার বাবাই নামের একজন সবাইকে ফোন করে বলেছেন, আজ কাজে না আসতে। প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ড কীভাবে ইউনিটে ফোন করে কাজ করতে বারণ করতে পারেন? ক্যামেরা গিল্ডের একজন সদস্যও এই কাজ করছেন। ফেডারেশনের দু’-তিনজন সদস্য এই আচরণ করছেন কেন? আমাদের প্রোডাকশন ম্যানেজার লাগবে না। আমরা ইপি দিয়ে কাজ করে নেব। মাননীয় সভাপতি আপনি আগে কন্ট্রোল করুন!”
রাণার দাবি, শনিবার, দু’ ঘণ্টা শুটিং বন্ধ ছিল। লাইট কেয়ারটেকাররা লাইট অন করছিলেন না। তখন স্বরূপ বিশ্বাস জানান, শুটিং বন্ধ হবে না। ফেডারেশন জানায়, লাইট কেয়ারটেকারদের রেসপন্সিবিলিটি তাদের নেই। এখন প্রশ্ন হল, টলিপাড়ার শুটিংয়ে কেন এরকম অশান্তি? এতে কি কাজের পরিমাণ কমে যাবে না?