‘ফেলুদা’ হতে চেয়েছিলেন অমিতাভ, তবুও কেন শশী কাপুরকে বেছে নিলেন সত্যজিৎ?
বাঙালির অত্যন্ত আবেগঘন একটি চরিত্র করার ইচ্ছা সারা জীবন মনেই পুষে রাখতে হয়েছে তাঁকে। আর কোনওদিনও তাঁর সেই সাধ পূরণ হবে না। চরিত্রটি আর কেউ নয়—সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি, ‘প্রদোষ চন্দ্র মিত্র’ ওরফে ‘ফেলুদা’। তবে সুযোগ কিন্তু এসেছিল বিগবির কাছে। সত্যজিৎ নাকি নিজেই চেয়েছিলেন হিন্দি ফেলুদা হোক অমিতাভ। কিন্তু পরে সেই অফার চলে গেল শশী কাপুরের কাছে। কী ঘটেছিল ঠিক?

সিনেমার পর্দায় হেন চরিত্র নেই যা তিনি ফুটিয়ে তোলেননি। ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ থেকে শুরু করে ডন, শাহেনশাহ—সব রূপেই দর্শক তাঁকে আপন করে নিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও একটি আক্ষেপ আজীবন রয়ে গেল অমিতাভ বচ্চনের মনে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা এবং বাঙালির অত্যন্ত আবেগঘন একটি চরিত্র করার ইচ্ছা সারা জীবন মনেই পুষে রাখতে হয়েছে তাঁকে। আর কোনওদিনও তাঁর সেই সাধ পূরণ হবে না। চরিত্রটি আর কেউ নয়—সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি, ‘প্রদোষ চন্দ্র মিত্র’ ওরফে ‘ফেলুদা’। তবে সুযোগ কিন্তু এসেছিল বিগবির কাছে। সত্যজিৎ নাকি নিজেই চেয়েছিলেন হিন্দি ফেলুদা হোক অমিতাভ। কিন্তু পরে সেই অফার চলে গেল শশী কাপুরের কাছে। কী ঘটেছিল ঠিক?
সময়টা আটের দশক। দূরদর্শনের জন্য সত্যজিৎ রায় হিন্দি ভাষায় ফেলুদা তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। আর সেই ছবির নামভূমিকায় অর্থাৎ ফেলুদার চরিত্রে তাঁর প্রথম পছন্দ ছিলেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন। বহু আগে সত্যজিৎ পুত্র সন্দীপ রায় এক সাক্ষাৎকারে জানিয়ে ছিলেন, সেই সময় পর পর সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকায়, সত্যজিৎকে সময় দিতে পারেননি অমিতাভ। ফলে বাধ্য হয়েই হিন্দি ফেলুদা-তে (ধারাবাহিক) শশী কাপুর বেছে নেন সত্যজিৎ।
তবে ফেলুদা হওয়ার এই সুপ্ত বাসনা যে অমিতাভ বচ্চনের মনে কতটা গভীরভাবে গেঁথে ছিল, তা প্রকাশ পায় বহু বছর পর, প্রয়াত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘দ্য লাস্ট লেয়ার’ (The Last Lear) ছবির শুটিং চলাকালীন। ঋতুপর্ণ ঘোষ এক সাক্ষাৎকারে অমিতাভের এই অজানা আক্ষেপের কথা অকপটে ভাগ করে নিয়েছিলেন।
ঋতুপর্ণ জানিয়ে ছিলেন, শুটিংয়ের অবসরে এক আড্ডায় ফেলুদা প্রসঙ্গ উঠতেই আক্ষেপের সুরে অমিতাভ বচ্চন তাঁকে বলেছিলেন, সত্যজিৎ রায় যখন সন্দীপ রায়ের পরিচালনায় ‘কিসসা কাঠমাণ্ডু কা’ (ফেলুদার গল্প ‘যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে’ অবলম্বনে হিন্দি ধারাবাহিক) তৈরি করেন, তখন ফেলুদার চরিত্রে নেওয়া হয়েছিল শশী কাপুরকে। সেই সিদ্ধান্তের কথা মনে করে অমিতাভ কিছুটা রসিকতা এবং কিছুটা মনখারাপের সুরে ঋতুপর্ণকে প্রশ্ন করেছিলেন, “আমার থেকে কি শশী ভালো অভিনেতা ছিল? ও কেন ফেলুদা হল, আমি কেন পারলাম না?”
আসলে অমিতাভের দীর্ঘদেহী চেহারা, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এবং গম্ভীর কণ্ঠস্বর ফেলুদা চরিত্রের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত ছিল। খোদ সত্যজিৎ রায়ও তা মনে করতেন। কিন্তু বলিউডের ব্যস্ততম তারকার শিডিউল মেলানো এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক জটিলতায় হিন্দি ছবির পর্দায় অমিতাভের ‘মগজাস্ত্র’ ব্যবহার করা আর হয়ে ওঠেনি। বাঙালির প্রিয় গোয়েন্দা চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে না পারার এই আফসোস বলিউডের শাহেনশাহর বর্ণময় কর্মজীবনে চিরকাল একটি অধরা স্বপ্ন হিসেবেই থেকে গেল।
