Assembly: গ্রাম প্রধানদের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হল ক্ষমতা, বিধানসভায় পাশ পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল
West Bengal Panchayat Amendment Bill: বিলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে দিলীপ বলেন, "দরকার ছিল না এই বিলের। কিন্তু একটা মানুষের জন্য সব আটকে যাবে। তা হবে না। প্রধান অনুমতি দেবেন। সই করবেন সচিব, সহকারী সচিব। বিডিও, SDO, DM সই করলে অসুবিধা হয় না। আর সচিব, সেক্রেটারি সই করলে অসুবিধা। কাটমানি খাওয়া বন্ধ করবে এই বিল।"

কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর বেশিরভাগ গ্রাম প্রধানদের দেখা যাচ্ছে না। ব্যাহত হচ্ছে পঞ্চায়েতের কাজ। কয়েকদিন আগেই এই অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছিলেন, উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রাখতে গ্রাম প্রধানদের হাত থেকে আর্থিক ক্ষমতা কেড়ে নতুন বিল আনা হবে। সেই মতো শনিবার বিধানসভায় পেশ হয় পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল। আর বিপুল সমর্থন পেয়ে পাশ হয়ে গেল সেই বিল। পঞ্চায়েত সংশোধনী বিলে ভোটাভুটির দাবি জানিয়েছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ভোট দেন ১৬৯ জন। বিপক্ষে পড়ে ১৩ জনের ভোট। আর ৩২ জন বিধায়ক ভোটদানে বিরত থাকেন।
বিধানসভায় কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
পঞ্চায়েত সংশোধনী বিলের উপর আলোচনায় জবাবি ভাষণে তৃণমূলকে নিশানা করেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বলেন, “অনেকে পঞ্চায়েত টিকিট কিনেছিলেন, পঞ্চায়েত সমিতির টিকিট কিনেছিলেন, জেলা পরিষদের টিকিট কিনেছিলেন। এখনও সেই টাকা শোধ হয়নি। দু’বছর আগেই যদি পঞ্চায়েতে অন্য কেউ চলে আসে। সেই টাকার জন্য আপনাদের দুঃখ।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলায় একটা কথা আছে, উপরে ভগবান। আর নিচে প্রধান। যে জন্য পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নিয়ে এত বদনাম হচ্ছে। আপনার বাড়ি তিনতলা নয়। কিন্তু প্রধানের বাড়ি তিনতলা।”
বিলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে দিলীপ বলেন, “দরকার ছিল না এই বিলের। কিন্তু একটা মানুষের জন্য সব আটকে যাবে। তা হবে না। প্রধান অনুমতি দেবেন। সই করবেন সচিব, সহকারী সচিব। বিডিও, SDO, DM সই করলে অসুবিধা হয় না। আর সচিব, সেক্রেটারি সই করলে অসুবিধা। কাটমানি খাওয়া বন্ধ করবে এই বিল। কারণ, কাটমানি না দিলে প্রধান সই করেন না। তাই আজ এই বিল।”
তৃণমূলকে কটাক্ষ করে দিলীপ আরও বলেন, “গোটা দেশে একমাত্র প্রধানদের সই করার ক্ষমতা পশ্চিমবঙ্গে আছে। পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে এত হিংসা। আপনাদের (তৃণমূলের উদ্দেশে) দুঃখ প্রধানের জন্য নয়। আপনাদের দুঃখ তাদের টাকার জন্য।” প্রধানদের উদ্দেশে দিলীপ বলেন, “সরকারকে অপদস্থ করতে আজ আপনারা পঞ্চায়েতে আসছেন না। অনেক বিধায়ক আমায় বলেছিলেন যে ভেঙে দিন পঞ্চায়েত। আমায় অধিকার দেয়নি পঞ্চায়েত ভেঙে দেওয়ার। আমায় গড়ার অধিকার দিয়েছে। আমজনতার কাজ করার জন্য।”
আইনে কোনও পরিবর্তন হয়নি জানিয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, “সাময়িকভাবে পঞ্চায়েত চালানোর জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। গরিব মানুষ যাতে পরিষেবা পায়, তাই আমরা সামান্য পরির্বতন করে তাদের পরিষেবা নিশ্চিত করতেই এই বিল এনেছি। কিন্তু কোনও আইন বদল করিনি।”
‘কাটমানি খাওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছি’-
তৃণমূল আমলে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ বারবার উঠেছে। সেকথা উল্লেখ করে দিলীপ বলেন, “গরিব মানুষ কাজ করে টাকা পায়নি। প্রধান সই না করলে গরিবের পকেটে টাকা যাবে না। কে দিয়েছে এই অধিকার? আমরা তাই সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা করেছি। সংবিধানের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি। কাটমানি খাওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছি। একটা রাস্তা, টেন্ডার সব হবে। কিন্তু কাটমানি? সেই অধিকার থাকবে না। বিলে সই করবেন সেক্রেটারি। শুধু অনুমতি দেবেন প্রধান।” কেন্দ্রের কাছ থেকে ১০০ দিনের কাজের টাকা আবার আসবে জানিয়ে দিলীপ বলেন, “১০০ দিনের টাকা আবার আসবে। কাজ হবে। কিন্তু সেই টাকা মানুষের হাতে যাক আমরা চাই। তাই এই বিলে সংশোধন।”
