
সৃজলা গুহ (Srijla Guha) এবং নন্দিনীকে ঘিরে ‘বিগ বস বাংলা’-এর ঘরে বিতর্ক যেন থামছেই না। সোমবারের পর্বে এক ভয়ঙ্কর সত্যি সামনে আনলেন সৃজলা। একটি টাস্ক চলাকালীন তিনি জানান, নন্দিনীর আঘাতের কারণে তিনি মা নাও হতে পারতেন।
কী ঘটেছে বিগ বসের ঘরে?
বিগ বস এদিন প্রতিযোগীদের একটি নতুন টাস্ক দিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, কনফেশন রুমে গিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখে জমা দিতে বলা হয়। এরপর ড্রয়িং রুমে সবার সামনে সেই অভিযোগগুলি পড়ে শোনানো হয়। যাঁর নামে অভিযোগ, তাঁকে আন্দাজ করতে হবে কে সেই কথা লিখেছেন। এরপর তাঁর মুখে ফোম মাখিয়ে দেওয়া হবে এবং তিনি সেই অভিযোগের জবাব দেবেন। এই টাস্কে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ওঠে সৃজলার বিরুদ্ধে। ফলে তাঁকে একাধিকবার মুখে ফোম মাখতে হয়।
কী বলেছেন সৃজলা?
টাস্ক চলাকালীন তনুশ্রী একটি অভিযোগ লেখেন সৃজলার উদ্দেশে। তিনি জানান, নন্দিনী নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং তিনি অনুতপ্ত। তাই সৃজলার উচিত এবার তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া। কিন্তু এই কথা শুনে সৃজলা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি কোনওদিন নন্দিনীকে ক্ষমা করতে পারবেন না। নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে সৃজলা বলেন, “আমার যে চোট লেগেছে, সেটা একটা ব্লান্ট ফোর্স ইনজুরি (Blunt force injury)। আর সেই কারণেই আমি মা নাও হতে পারতাম।”
কী ঘটেছিল ঘোড়ার টাস্কে?
বেশ কিছুদিন আগে বিগ বসের একটি গেমে ঘোড়ার ওপর থেকে সৃজলাকে ফেলে দিয়েছিলেন নন্দিনী। সেই ঘটনা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়। নন্দিনীর আক্রমণে ঘোড়া থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে যান সৃজলা এবং যন্ত্রণায় চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন। বিগ বস সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বিশ্রামে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই সময় রাজবীর সৃজলাকে কোলে তুলে নিয়ে সোখানে পৌঁছে দেন। চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে, সৃজলা বেশ কিছুদিন হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন। খেলার নিয়মে আঘাত করা নিষেধ থাকলেও এমন ঘটনা ঘটে। যদিও পরবর্তী সময়ে নন্দিনী বারবার বিভিন্ন ভাবে সৃজলার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। প্রথমদিকে দর্শকরা নন্দিনীর ওপর রেগে থাকলেও, এখন ধীরে ধীরে সেই রাগ অনেকটাই কমেছে।
এদিনের পর্ব থেকে স্পষ্ট যে, বাড়ির অন্যান্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে সৃজলার দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। অনেকেই এখন তাঁর বিপক্ষে চলে গিয়েছেন। একাংশের দাবি, সৃজলা অভিনয় করছেন এবং তিনি মুখোশ পরে রয়েছেন। তবে সৃজলা কারও অভিযোগকেই পাত্তা দিতে নারাজ। তিনি বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি যেমন ঠিক তেমনই থাকবেন।
এদিন এত গুরুগম্ভীর আলোচনার মধ্যেও বাড়ির পরিবেশ হালকা হয় রাজবীরের জন্মদিনের সেলিব্রেশনে। বিগ বস রাজবীরের জন্য কেক পাঠান। পাশাপাশি, নন্দিনী নিজের হাতে পায়েস বানিয়ে রাজবীরকে খাওয়ান। মাঝরাতে সবাই মিলে কেক কাটা হয়। অন্যদিকে, দুর্গাপুজো এগিয়ে আসছে। তাই পুজোর আবহে সব প্রতিযোগীদের নিয়ে একটি গান লিখেছেন ঝিলম। তিনি জানান, এই সপ্তাহে যদি তিনি এলিমিনেট হয়ে যান, তবে এই গানের মধ্যে দিয়েই সবাই তাঁকে মনে রাখবেন।