
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হু হু করে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। বেশিরভাগ মানুষের ধারণা, অত্যধিক পরিমাণে মদ্যপানের জেরেই লিভারের সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু মদ্যপানই ফ্যাটি লিভারের একমাত্র কারণ নয়। মূলত অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের পিছনে দায়ী মদ। তবে, মদ ছাড়াও দৈনন্দিন অভ্যাসের জেরেও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তেলমশলাযুক্ত খাবার খাওয়া, বাইরের খাবারের প্রতি আসক্তি, ঘন ঘন কোল্ড ড্রিংক্স খাওয়া—এমন নানা কারণে লিভারের সমস্যা দেখা দেয়। এগুলো ছাড়াও আরও অভ্যাস রয়েছে, যা লিভারের সমস্যা ডেকে আনে।
চিনি খাওয়া: লিভারের সমস্যার পিছনে অবশ্যই ডায়েট দায়ী। বাইরের খাবার খাওয়ার পাশাপাশি চিনিযুক্ত খাবার খেলে ফ্যাটি লিভার বাড়বেই। চিনি শরীরের জন্য বিষ। লিভারের অসুখ ডেকে আনার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, এমনকি ক্যানসারের মতো মারণ রোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।
জল কম খাওয়া: শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য লিভারকে ডিটক্সিফাই করা জরুরি। অর্থাৎ, শরীর থেকে টক্সিন বের করা দরকার। প্রস্রাবের সঙ্গে শরীরের দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায়। আপনি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ জল না খান, তখনই শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। লিভার থেকে টক্সিন বের করলে লেবুর জল, ডিটক্স ওয়াটারও খেতে পারেন।
পেইনকিলার খাওয়া: একটু মাথার যন্ত্রণা হলেই পেইনকিলার খেয়ে নেন? কথায় কথায় প্যারাসিটামল খাওয়ার অভ্যাস? এই ধরনের ওষুধ কিন্তু লিভারের ক্ষতি করে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধই খাওয়া উচিত নয়।
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো: আজকাল বেশিরভাগ মানুষই অনিদ্রায় ভোগেন। ঘুমোতে যাওয়ার আগে মোবাইল ঘাটা এবং এই কারণে রাতে ঘুমোতে দেরি হয়। ঘুমলেও রাতে বার বার ঘুম ভেঙে যায়। এই ধরনের ঘুমের সমস্যা লিভারের উপর চাপ সৃষ্টি করে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ে।
শরীরচর্চায় অনীহা: বাড়তি ওজন কখনওই স্বাস্থ্যের জন্য ভাল বিষয় নয়। ভুঁড়ির দিকে নজর দিন। শরীরচর্চা না করলেও শরীরে নানা রোগ জাঁকিয়ে বসে। এর মধ্যে ফ্যাটি লিভারও রয়েছে। রোগের হাত থেকে বাঁচতে যোগব্যায়াম করুন।