
পেটের সমস্যা বাঙালির চিরকালীন। পেটরোগা বলে বাঙালির নামে একাধিক বদনাম রয়েছে। এমনকী পেটরোগা বাঙালির নানা সমস্যা হাস্যকৌতুকের আকারে বর্ণিত হয়েছে গল্প, সাহিত্যে। আগেকার দিনে যে কোনও অনুষ্ঠানবাড়িতে মানুষ আক্ষরিক অর্থেই পাত পেড়ে খেতেন। একসঙ্গে ৫০ খানা রসগোল্লা, ১ বালতি মাটন সহজেই তাঁরা খেয়ে ফেলতে পারতেন। তবে এখন আর সেই ভাবে পাতপেড়ে খাওয়ার দিন নেই আর পেটেরও সেই ক্ষমতা নেই। চোখের সামনে খাবার দেখলে কার না খিদে পায়! খিদের চোটে একগাদা খাবার খেয়ে ফেললে তারপরই অস্বস্তি হয়।
আজকাল আমাদের জীবনযাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে আমাদের রোজ শরীরচর্চার কোনও সুযোগ নেই। রোজ তেলমশলাদার খাবার খাওয়া, ফাস্টফুড খাবারের ফলে হজমশক্তিও কমেছে। ফলে উল্টো পাল্টা খাবার খেলেই সমস্যা হয়। একই সঙ্গে খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনও রুটিনও নেই। ফলে বদহজম, বুকজ্বালা, অ্যাসিডিটি, পেট ফেঁপে যাওয়া এমন নানা সমস্যা লেগেই থাকে। শরীর দুর্বল হলে খাবার হজম খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণ টক্সিনও জমা হতে পারে। ভুল সময়ে খাওয়া, ভুল খাবার খাওয়ারল ফলেই এই সমস্যা জাঁকিয়ে বসে। আর তাই যে ৫ বদঅভ্যাস আজই এড়িয়ে চলবেন-
অনেকেই এমন আছেন যাঁরা দুপুরের খাওয়া সেরে তারপরে স্নানে যান। খাওয়ার ২ ঘন্টা পর স্নান মোটেই কাজের কথা নয়। এতে শরীরের হজমের উপরেও প্রভাব পড়ে। কারণ খাওয়ার পর স্নান করলে শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে কমে যায়। ফলে হজম হতে সময় বেশি লাগে।
রাতে খাওয়ার পর হাঁটা, ব্যায়াম অনেকেই করেন। তবে আয়ুর্বেদ বলছে এই অভ্যাস একেবারেই ঠিক নয়। এতে বরং খাবার হজম হতে বেশি সম. লাগে। তাই কোনও খাবার খাওয়ার অন্তত ১০-১৫ মিনিট পর হাঁটুন।
দুপুর ১২-২ টোর মধ্যে খাবার খান। দুপুরের আহারের জন্য এটাই হল সঠিক সময়। এরপর খেলে যেমন অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে তেমনই খাবার হজম হতেও অনেকটা বেশি সময় লেগে যায়। তাই আয়ুর্বেদ বলছে দুপুরের মধ্যেই খাবার খান।
রাতে দই খাবেন না। কারণ দই রাতে হজম করতে সমস্যা হয়। আয়ুর্বেদ মতে পিত্ত দোষ বাড়ে। সেই সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
খাওয়া আর ঘুমের মধ্যে অন্তত ৩ ঘন্টা সময় রাখুন। খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না। এতে খাবার হজম হয় না। ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত ৩ ঘন্টা আগে খাবার খেয়ে নিন।