
দেহে কোনও ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস প্রবেশ করলে কিংবা কোনও আঘাত পেলে প্রদাহ তৈরি হয়। অনেক সময় ডায়ারিয়া, পেট ফুলে যাওয়া, লালচে ভাব, ফোলাভাবের মতো উপসর্গগুলোই জানান দেয় যে, দেহে প্রদাহ বাড়ছে। প্রদাহ হল ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য দেহের রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়া। আর দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বজায় রাখতে গেলে অন্ত্রের খেয়াল রাখা দরকার। প্রায় 80% ইমিউন সিস্টেম অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমে বাস করে। ইমিউন সিস্টেমের প্রধান কাজ হল অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করা।
এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও আপনার ডায়েটের উপর নির্ভর করে। আপনি যদি অস্বাস্থ্যকর খাবার খান, ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়বে এবং শারীরিক প্রদাহ বাড়বে। এমন অনেক খাবার রয়েছে যা অন্ত্রের জন্য ভাল নয়। আবার অন্ত্রে ভাল ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা ভাল রাখতে গেলে খাওয়া-দাওয়ার উপর জোর দেওয়া জরুরি। তাই কোন খাবারগুলো খাবেন, আর কোনগুলো এড়িয়ে যাবেন, দেখে নিন।
যে সব খাবার খাবেন না-
১) যে সব খাবারে সাদা চিনি, কর্ন সিরাপ, ব্রাউন সুগার, আর্টিফিশিয়াল সুইটনার ইত্যাদি ব্যবহার করে তৈরি হয়, সেগুলো এড়িয়ে চলুন।
২) সিরিয়াল, পাউরুটি, চিপস, বিস্কুট, ইনস্ট্যান্ট স্যুপ, সস, কেচাপ, নুডলসের মতো খাবার হল প্রক্রিয়াজাত খাবার। এছাড়াও আইসক্রিম, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস, বার্গার, সোয়া পণ্যের মতো খাবারেও প্রিজারভেটিভ থাকে। এগুলো এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।
৩) সানফ্লাওয়ার অয়েল, সোয়াবিন তেল, রাইস ব্রান তেল, ক্যানোলা তেলের মতো তেলে উচ্চ পরিমাণে ফ্যাট রয়েছে। একইভাবে, মাটন, ময়দার তৈরি খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে। এগুলোও অন্ত্রের প্রদাহ বাড়িয়ে তোলে।
৪) মদ্যপান ও ধূমপান অন্ত্র ও পাচনতন্ত্রের প্রদাহ বাড়িয়ে তোলে।
যে সব খাবার রোজ খাবেন-
১) টক দই, আচার, কাঞ্জি, কম্বুচার মতো খাবারে প্রোবায়োটিক রয়েছে। এই ধরনের খাবারগুলো অন্ত্রের জন্য ভাল।
২) প্রিবায়োটিক খাবার অন্ত্রের জন্য উপকারী। পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচ কলা, গ্লুটেন-ফ্রি দানা শস্য, ডাল, বাদাম ও বীজ ইত্যাদি প্রিবায়োটিক খাবার হিসেবে খেতে পারেন।
৩) অন্ত্রের প্রদাহ কমানোর জন্য বেরিজাতীয় ফল, শাকসবজি, আঙুর, আমলকি, হলুদ, ঘি, নারকেল তেল, বাদাম, বীজ, মাছের মতো খাবার খান। এতে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা শারীরিক প্রদাহ কমায়।