
নয়া দিল্লি: বর্তমানে শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল প্রাপ্তবয়স্ক বা বয়স্কদের নয়, অল্পবয়সি, টিনেজরাও এই সমস্যায় আক্রান্ত। মূলত, পড়াশোনা হোক বা চাকরি- বিভিন্ন ক্ষেত্রে অত্যধিক মানসিক চাপের কারণেই মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। ফলে সময়মতো মানসিক চাপ শনাক্ত না করলে এবং নিয়ন্ত্রণ করা না হলে মানসিক স্বাস্থ্যের বড় ক্ষতি হতে পারে। আর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হলে চিন্তাভাবনা, মেজাজ থেকে আচরণের পরিবর্তন হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে অবসাদ, উদ্বেগ এবং সিজোফ্রেনিয়ার মতো মানসিক রোগ গ্রাস করে। যার ফলে বড় সমস্যা হতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হলে দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যা দেখা দেয়। যেমন, কোনও কাজে আগ্রহ থাকবে না, কারও সঙ্গে মেলামেশা করতে ইচ্ছা করবে না এবং সবসময় একাকিত্ব গ্রাস করবে। সঠিক সময়ে এটা নিয়ন্ত্রণ না করলে আত্মহত্যা বা অন্য কারও ক্ষতি পর্যন্ত করতে হাত কাঁপবে না। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে কেবল মানসিক স্থিতি নষ্ট করবে না, শারীরিক অবস্থার উপরেও প্রভাব ফেলে। এটা বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। তাই মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে এর অবনতির কারণ আগে জানা দরকার।
মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ কী?
গাজিয়াবাদ জেলা হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের চিকিৎসক এ.কে বিশ্বকর্মা জানান, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তার প্রভাব শরীরের উপরেও পড়ে। মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির অনেক কারণ রয়েছে। এটার শুরু হয় উদ্বেগ এবং আতঙ্কের সঙ্গে। মূলত, মস্তিষ্কে উপস্থিত নিউরোট্রান্সমিটার এবং রাসায়নিকের কার্যকলাপের অত্যধিক বৃদ্ধি বা হ্রাসের কারণে এটি ঘটে।
মাথায় আঘাত লাগলেও মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। এছাড়া জীবনে কোনও বড় দুঃখজনক ঘটনা, পারিবারিক সম্পর্কের সমস্যা, চাকরি হারানো, বিশেষ কোনও ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ বা তাঁর মৃত্যু এবং মাদকাসক্তির মতো অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করে।
দুর্বল মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে কোন রোগের ঝুঁকি রয়েছে?
মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি একজন ব্যক্তিকে মানসিক রোগের শিকার করে তুলতে পারে। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য পুরো শরীরকে প্রভাবিত করে। মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়। যার সরাসরি প্রভাব হার্টের উপর পড়ে এবং হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে ঘুম ভাল হয় না। আর ঘুমের অভাবে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কীভাবে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা যায়?
মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ খুঁজে সেগুলি প্রতিকারের ব্যবস্থা করলেই অনেকাংশে ভাল থাকা যায়। তবে প্রতিকারের উপায় না থাকলে সাধারণ কয়েকটি উপায়ে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করতে হবে। যেমন, প্রতিদিন ব্যায়াম করুন, ধ্যান করুন। এতে মানসিক চাপ অনেক কমে যায়। কোনও সমস্যা হলে বন্ধু এবং পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন। তাহলে মনের চাপ অনেকটা লাঘব হবে। এছাড়া ফোনের ব্যবহার কমান। রাতে ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে ফোন ব্যবহার করবেন না। খাদ্যের ব্যাপারে যত্ন নিন।