
রুটি-তরকারি বা পোহা টিফিনে দিলে বাক্স খালি হয়ে ফিরবে না। অথচ, আপনি যদি পিৎজা, স্যান্ডউইচ কিংবা নুডলস দিলে খেয়ে নেবে। এই ধরনের ফাস্ট ফুড কমবেশি সব খুদেদের পছন্দ। রাস্তায় বেরোলেই চিপস, চকোলেটের বায়না। কিন্তু এই ধরনের খাবার মোটেই আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়। পিৎজা, বার্গার, চিপসের মতো খাবারে উচ্চ পরিমাণে ক্যালোরি, চিনি এবং ফ্যাট রয়েছে। দিনের পর দিন এই ধরনের খাবার খেলে সন্তানের ওজন বাড়বে। যাকে বলা হয় ওবেসিটি।
বিশ্বজুড়ে ৮ জনের মধ্যে ১ জন ওবেসিটিতে ভুগছে। ল্যানসেট পত্রিকায় প্রকাশিত একটি মেডিক্যাল জার্নাল থেকে জানা গিয়েছে, ১৯৯০ সাল থেকে ওবেসিটি বাচ্চাদের মধ্যে চারগুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। ৫-১৯ বছরের মধ্যে প্রায় ৩৯ কোটি মানুষের ওজন বেশি। আর ১৬ কোটি কিশোর-কিশোরী ওবেসিটিতে ভুগছেন। ওবেসিটি দেহের স্বাভাবিক মেটাবলিজমের উপর প্রভাব ফেলে এবং একাধিক শারীরিক সমস্যা ডেকে আনে। ছোট বয়স থেকেই যদি জাঙ্ক ফুডের প্রতি আসক্তি বাড়ে, তাহলে বিপদ। কীভাবে বাচ্চাদেরকে ফাস্ট ফুডের থেকে দূরে রাখবেন, রইল টিপস।
১) সন্তানকে বোঝাতে হবে তাজা খাবার খাওয়ার উপকারিতা। ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাঙ্ক ফুডে পাওয়া যায় না। এসব পুষ্টির জন্য গোটা শস্য, তাজা শাকসবজি ও ফল খেতে হবে।
২) খাবার রান্নার সময় বাচ্চাদেরকেও সঙ্গে নিন। ডিনার বানানোর সময় সবজির খোসা ছাড়ানো, মশলা দেওয়ার মতো ছোট ছোট কাজগুলো বাচ্চাদের দিয়ে করান। এতে তাদের রান্না করায় এবং বাড়ির তৈরি খাবার খাওয়ার প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
৩) বাজার থেকে চিপস, কুকিজ, কেক, নুডলস কিনে আনা বন্ধ করুন। যদি পিৎজা, বার্গার, চাউমিন, এগরোল খেতেই হয়, তাহলে সেটা বাড়িতে বানিয়ে নিন। বাড়ির তৈরি এসব খাবার অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
৪) বাড়ির খাবারকে সুস্বাদু করে তোলার চেষ্টা করুন। সবজির সঙ্গে মাছ, মাংস, ডিমও রাখুন। এগুলো বাচ্চারা খেতে ভালবাসে। তার সঙ্গে সবজি খেলে পুষ্টি ও স্বাদ দুটোই বজায় থাকবে।
৫) বাচ্চাদের স্ন্যাকসের দিকে খেয়াল রাখুন। নোনতা ও মিষ্টি খাবার ছেড়ে বাদাম, ফল ও সুইট কর্নের মতো ক্ষাবার খাওয়ান। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।