
মাত্র ২৪ বছর বয়স মেয়েটির। হঠাৎ একদিন দুই পায়ের উরু থেকে শুরু করে পায়ের আঙুল পর্যন্ত তীব্র জ্বালা হতে শুরু করে তাঁর। কী কারণে এমন অদ্ভুত অনুভূতি বুঝতে পারেননি যুবতী। ২ দিন পরে অবশেষে আর থাকতে না পেরে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন যুবতী।
যুবতীকে দেখেই চমকে যান চিকিৎসকেরাও। পরীক্ষা করে দেখেন তাঁর পায়ের রং ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছে। হাঁটতেও অসুবিধা হচ্ছিল যুবতীর। আরও খতিয়ে দেখতেই চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, মহিলার দুটি পা প্রায় বরফের মতো ঠান্ডা। অথচ তীব্র জ্বালা কমছে না কিছুতেই। এমনকি পপলাইটাল এবং ডোরসালিস পেডিস ধমনীতে কোনও সার খুঁজে পাননি চিকিৎসকেরা।
এরপরেই সিটি স্ক্যান করে দেখা যায় যুবতীর পায়ের ধমনী সরু হয়ে গেছে। ফলে রক্ত সঞ্চালনে ব্যঘাত ঘটছে। সেই কারেণ এই সমস্যা। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসকরা ওই যুবতীকে রক্ত পাতলা করার একটি ওষুধ দেন। যা খেয়ে রক্তের প্রবাহ বাড়ে ফলে পায়ের তাপমাত্রা ফিরে পায়।
ততদিনে যুবতীর পায়ের একটি আঙুলে গ্যাংগ্রিন ধরে গিয়েছিল পায়ের একটি আঙুলে। ফলে কেটে বাদ দিতে হয় সেই আঙুল। চিকিৎসকদের মতে ওই যুবতী এরগাটিজিম রোগে আক্রান্ত ছিলেন।
প্রাচীনকালে এই রোগ ‘হোলি ফায়ার’ বা ‘পবিত্র অগ্নি’ নামে পরিচিত ছিল। মনে করা হত, কারও অহংকার বেড়ে গেলে তাঁর এই রোগ হত। বাস্তবে এরগট নামক এক বিষাক্ত ছত্রাক শরীরে গেলে এই সমস্যা দেখা যায়। আটা বা ওই জাতীয় খাবারে এরগট নামক ছত্রাকের জন্ম হয়।
এই রোগে আক্রান্ত হলে তার প্রভাবে বিষক্রিয়া, খিঁচুনি, হ্যালুসিনেশন এবং গ্যাংগ্রিনের মতো নানা সমস্যা দেখা যায়। প্রাচীন কালে এই রোগকে দানবীয় বা রাক্ষস রোগ বলে মনে করা হত।
জার্মানিতে প্রথম গ্যাংগ্রিনাস এরগাটিজিম প্লেগ নামে এই রোগের উপস্থিতির কথা জানা যায়, ৮৫৭ সালে। ফ্রান্স, জার্মানি এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় এই রোগ মহামারির আকার ধারণ করে বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। ৯৪৫ খ্রীস্টাব্দের পরে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৮৩টি এরগাটিজিম মহামারির রিপোর্ট পাওয়া যায়।