
নয়াদিল্লি : হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ভারতের দিকে জাহাজের আনা-গোনা বাড়ছে। ইতিমধ্যে ৮টি জাহাজ হরমুজ় পারাপার করেছে। এর মধ্যে আবার বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ ইতিমধ্যেই ভারতের বন্দরগুলিতে পৌঁছেছে। সম্প্রতি, ভারতের দিকে রওনা দিয়েছে আরও তিনটি জাহাজ। তবে, তা অন্য রুট দিয়ে ভারতে আসছে। জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে এবার আশার আলো দেখছে নয়া দিল্লি। জানা গিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারতেই সবথেকে বেশি জাহাজ এসে পৌঁছেছে। জানেন, ৮টি ভারতীয় জাহাজে মোট কত পরিমাণ জ্বালানি এসেছে ভারতে? গ্যাস-তেল নিয়ে কি উদ্বেগের আর জায়গা নেই দেশে?
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়। তবে মার্কিন-ইজ়রায়েল যৌথ হামলার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত অবরুদ্ধ করে দেয় ইরান। যদিও তেহরান জানিয়েছে, ভারত, রাশিয়া, চিন ও পাকিস্তানের মতো ‘বন্ধু’ দেশগুলির জন্য এই পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু, বারবার হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে, তার মধ্যেও হরমুজ় পারাপার হচ্ছে ভারতীয় জাহাজগুলি। আজই ‘গ্রিন সানভি’ (Green Sanvi) নামে একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার সফলভাবে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। হরমুজ় প্রণালী পারাপার করা অষ্টম ভারতীয় জাহাজ এটি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ‘গ্রিন আশা’ এবং ‘জগ বিক্রম’ ভারতে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত এক মাসে যে জাহাজগুলি হরমুজ় পারাপার করেছে, সেগুলি হল
শিবালিকে ৪৬ হাজার এলপিজি, নন্দা দেবীতে ৪৬ হাজার ৫০০, জাগ লাড়কিতে ৮১ হাজার টন তেল, পাইন গ্যাসে ৪৭ হাজার এলপিজি, জাগ বসন্তে ৪৭ হাজার ৫০০ এলপিজি, বিডব্লিউ টিওয়াইআর ও বিডব্লিউ ইএলএম-এ ৯৪ হাজার এলপিজি ও গ্রিন সানভিতে ৪৪ হাজার এলপিজি রয়েছে। অর্থাৎ সঙ্কটের মধ্যে গত এক মাসে ভারতে ৩ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ভারতে এসেছে। অর্থাৎ হিসেব বলছে প্রায় ২ কোটির বেশি সিলিন্ডারে গ্যাস ভর্তি করা যাবে। সঙ্কটের মধ্যে যা ভারতের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির। যদিও ১৪০ কোটির দেশে তা কতটা চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়েছে তা জানা নেয়।
বর্তমানে প্রায় ৪৮৫ জন ভারতীয় নাবিক নিয়ে ১৫টিরও বেশি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ হরমুজ়ে আটকে রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী তাঁদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে, বন্ধু দেশগুলির জন্য খোলা রয়েছে। আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের জন্য বন্ধ থাকছে জলপথ। এদিকে, ইরান নতুন করে হরমুজ়ের পর বাব এল মাণ্ডবও বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।