
নয়া দিল্লি: ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশাল মুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সেই লক্ষ্য পূরণও করেছেন তিনি। নকশাল মুক্ত ভারত ঘোষণার পর এবার আরেকটি লক্ষ্য স্থির করলেন অমিত শাহ। কী এই লক্ষ্য?
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করলেন যে ভারতকে মাদক-মুক্ত করা হবে। এর জন্য ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর লক্ষ্য স্থির করেছেন। গতকাল, ২১ অক্টোবর দিল্লিতে ন্যাশনাল পুলিশ মেমোরিয়ালে পুলিশ স্মরণ দিবসে অংশ নিয়েই এই কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন যে এটি তাঁর কাছে আরেকটি জাতীয় মিশন। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও যুব প্রজন্মের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই লক্ষ্য স্থির করেছেন।
অমিত শাহ বলেন, “আমরা মাদকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়ব এবং ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এর থেকে দেশকে মুক্ত করব”। ‘নেশা মুক্ত ভারত’ গড়ার জন্য তিনি পুলিশ বাহিনীর সাহায্যও চান। বলেন যে মাদক সমস্যা এমন একটি বিপদ যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুর্বল করে দিচ্ছে। অর্থনীতির উপরে চাপ তৈরি করছে। দেশ বিরোধী কার্যকলাপেও মদত দেওয়া হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো ইতিমধ্যেই ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের জন্য স্ট্রাটেজি তৈরি করেছে। এর মূল চারটি স্তম্ভ হল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগ, মাদক তৈরির কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ ও কৃত্রিম মাদকের উপর নিয়ন্ত্রণ, মাদকের চাহিদা হ্রাস ও আসক্তদের রিহ্যাবিলেশন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা। ১০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য ড্রাগ নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করা, মাদক সংক্রান্ত অপরাধে পলাতক ১০০-রও বেশি অপরাধীদের দেশে ফেরানো এবং ড্রাগ ল্যাবরেটরি ধ্বংসের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে ভারতকো নকশাল-মুক্ত করার কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ ডেডলাইন স্থির করা হয়েছিল। এপ্রিল মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসের মধ্যে ৭০৬ জন মাওবাদীকে নিকেশ করা হয়েছে। ২২১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৪৮৩৯ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে। নকশাল প্রভাবিত রাজ্যের সংখ্যা ২০১৪ সালে ৩৫ ছিল। তা বর্তমানে শূন্য হয়ে গিয়েছে।