AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Drug Abuse: ওষুধের দোকানে কী বিক্রি হচ্ছে? মাদকবিরোধী কর্মীর ক্যামেরায় সবটা ধরা পড়তেই গুলি চালালেন মালিক

Punjab Anti-Drug Activist Shot Dead: সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ চলাকালীন ওই দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানদারকে মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রশ্ন করতে দেখা যায় ঝোটাকে। প্রায় সাড়ে পাঁচ মিনিটের ওই ভিডিয়োতে তাঁর পাশে এক বৃদ্ধকেও দেখা যায়। ঝোটার দাবি ছিল, ওই বৃদ্ধ দোকান থেকে নেশার ওষুধ কিনেছিলেন। এরপরই দোকানদারের সঙ্গে তীব্র বচসা শুরু হয় ঝোটার।

Drug Abuse: ওষুধের দোকানে কী বিক্রি হচ্ছে? মাদকবিরোধী কর্মীর ক্যামেরায় সবটা ধরা পড়তেই গুলি চালালেন মালিক
মাদকবিরোধী কর্মী পরবিন্দর সিং ঝোটা (বাঁদিকে), অভিযুক্ত ওষুধ দোকানের মালিক (ডানদিকে)Image Credit: Social Media
| Updated on: Oct 13, 2026 | 2:32 PM
Share

চণ্ডীগড়: ওষুধের দোকানে মাদক বিক্রির অভিযোগ। ওষুধের দোকানদারকে প্রশ্ন করতে গিয়ে গুলিতে প্রাণ গেল এক মাদকবিরোধী কর্মীর। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্জাবের মানসায়। মৃতের নাম পরবিন্দর সিং ঝোটা। গোটা ঘটনা ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্ত ওষুধ দোকানের মালিক।

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ চলাকালীন ওই দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানদারকে মাদক বিক্রির অভিযোগে প্রশ্ন করতে দেখা যায় ঝোটাকে। প্রায় সাড়ে পাঁচ মিনিটের ওই ভিডিয়োতে তাঁর পাশে এক বৃদ্ধকেও দেখা যায়। ঝোটার দাবি ছিল, ওই বৃদ্ধ দোকান থেকে নেশার ওষুধ কিনেছিলেন। এরপরই দোকানদারের সঙ্গে তীব্র বচসা শুরু হয় ঝোটার। ভিডিয়োতে দোকানদারের হাতে একটি পিস্তল দেখা যায়। তাঁকে উদ্দেশ করে ঝোটাকে বলতে শোনা যায়, “গুলি করো আমাকে, গুলি করো।” দোকানদারের কাছে পিস্তল কেন রয়েছে, সেই প্রশ্নও করেন তিনি।

পাশাপাশি, তাঁর সহযোগীদের পুলিশকে খবর দিতে এবং আরও লোকজনকে সেখানে জড়ো হতে বলেন ঝোটা। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর দাবিও জানান তিনি। ভিডিয়োতে দেখা যায়, দোকানদার ওই বৃদ্ধের কাছে জানতে চান, তিনি তাঁর কাছ থেকে ‘মাদক’ নিয়েছিলেন কি না। উত্তরে ঝোটা বলেন, “হ্যাঁ, আমাদের কাছে রেকর্ডিং রয়েছে।” বচসা চলাকালীন আচমকাই গুলি চালান দোকানদার। গুলিতে মৃত্যু হয় ঝোটার। এরপর তাঁর মোবাইল ফোন মাটিতে পড়ে যায় এবং ফেসবুক লাইভ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত দোকানদার।

দেখুন ভিডিয়ো (সতর্কবার্তা: ভিডিয়োটি মানসিকভাবে বিচলিত করতে পারে। ভিডিয়োটি যেহেতু এডিট করা হয়নি, তাই বচসা ও গুলি চালানোর মুহূর্ত ধরা পড়েছে। বচসার সময় অশালীন ভাষাও ব্যবহার করা হয়েছে।)

বেশ কয়েক বছর ধরে মাদকের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছিলেন ঝোটা-

মানসা ও তার আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে মাদকবিরোধী প্রচার চালাচ্ছিলেন পরবিন্দর সিং ঝোটা। বিভিন্ন ওষুধের দোকান থেকে বেআইনিভাবে নেশার ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হতেন তিনি। ফেসবুকে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজারেরও বেশি। বিভিন্ন দোকানে গিয়ে তাঁর প্রতিবাদ ও হস্তক্ষেপের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ত। সেই সূত্রেই পরিচিতি পান তিনি।

২০২৩ সালে এক ওষুধের দোকানদারের সঙ্গে বিতর্কের জেরে প্রথমবার শিরোনামে আসেন ঝোটা। ওই বছরের ১২ জুলাই ঝোটা ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে এক দোকানদারের বিবাদ হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার পর ঝোটা ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ। মারধর, অনধিকার প্রবেশ এবং হিংসায় জড়িত থাকার মতো অভিযোগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দু’মাস পর মুক্তি পান তিনি।

আপ সরকারের বিরুদ্ধে সরব বিজেপি, কংগ্রেস ও আকালি দল-

দিনদুপুরে এই খুনের ঘটনায় পঞ্জাবে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আম আদমি পার্টি (আপ) সরকারের মাদকবিরোধী অভিযান ‘যুদ্ধ নশিয়ান বিরুদ্ধ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি। বিজেপি, কংগ্রেস এবং শিরোমণি আকালি দলের নেতারা ভগবন্ত মান সরকারের সমালোচনা করেছেন।

বিজেপি নেতা সুনীল জাখর বলেন, এই খুন পঞ্জাব সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানের বাস্তব চিত্র সামনে এনেছে। এক্স হ্যান্ডলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ওষুধের দোকানে নেশার ওষুধ বিক্রি বন্ধ করার দায়িত্ব কি ড্রাগ ইনস্পেক্টরদের নয়?”

কংগ্রেস নেতা অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিংয়ের বক্তব্য, ঝোটার খুন পঞ্জাব সরকারের ব্যর্থ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ‘যুদ্ধ নশিয়ান বিরুদ্ধ’ অভিযানের ব্যর্থতার ফল। ওয়ারিং বলেন, “পঞ্জাবের মাদকের সমস্যা দূর করতে এগিয়ে এসেছিলেন পরবিন্দর। কিন্তু আপ সরকার কখনও তাঁর উদ্যোগকে সমর্থন করেনি।”

একই ইস্যুতে মান সরকারকে নিশানা করেছেন শিরোমণি আকালি দলের নেতা বিক্রম সিং মাজিথিয়াও। রাজ্যের শীর্ষ পুলিশকর্তা সম্প্রতি ওষুধের মাধ্যমে নেশার সমস্যা বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকার কী পদক্ষেপ করেছে এবং বেআইনি নেশার ওষুধের কতটা সরবরাহ আটক করা হয়েছে? ড্রাগ ইনস্পেক্টরদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাজিথিয়া। তাঁর বক্তব্য, নেশার ওষুধের বেআইনি বিক্রি বন্ধ করার দায়িত্ব কি তাঁদের নয়?

এই ঘটনায় আপ নেতাদের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভোটমুখী পঞ্জাবে মাদকাসক্তি এবং ওষুধের দোকান থেকে বেআইনিভাবে নেশার ওষুধ বিক্রির অভিযোগ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এই খুনের ঘটনায়।

Follow Us