Sushmita Dev Resigns from TMC MP Post: আরও ভাঙল তৃণমূলের ঘর, রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা সুস্মিতা দেবের
২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন তিনি। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দেন। দলে যোগ দেওয়ার পরই তাঁকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়। জাতীয় মুখপাত্র করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের। এরপর রাজ্যসভার সাংসদ করা হয় সুস্মিতাকে।

নয়া দিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসে আরও এক ধাক্কা। এবার ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev)। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিলেন। এই নিয়ে এক সপ্তাহে দ্বিতীয় ইস্তফা তৃণমূল সাংসদদের। এর আগে সুখেন্দু শেখর রায়(Sukhendu Sekhar Roy)-ও রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এবার সাংসদ পদ ছাড়লেন সুস্মিতাও।
তৃণমূলে চওড়া হচ্ছে ফাটল-
একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিধায়ক নতুন তৃণমূল গড়ার তোড়জোড় করছে। বিধানসভা থেকে সংসদেও পৌঁছে গিয়েছে বিক্ষোভের আঁচ। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে জনা বিশেক সাংসদ লোকসভায় আলাদা ফ্রন্ট গড়ে এনডিএ-কে সমর্থন করতে প্রস্তুত। এর মাঝেই আরও বড় ভাঙন। রাজ্যসভার সাংসদরা একে একে ইস্তফা দিচ্ছেন। সুখেন্দু শেখর রায় ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন। আজ, বুধবার সুস্মিতা দেবও ইস্তফা দিলেন। আজই তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণনের কাছে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন। জল্পনা শোনা যাচ্ছে, সদ্য সাংসদ হওয়া কোয়েল মল্লিকও ইস্তফা দিতে পারেন।
সর্বভারতীয় স্তরেও ভাঙন-
কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে এসেছিলেন সুস্মিতা দেব। অসমের শিলচর থেকে লোকসভার সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন তিনি। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দেন। দলে যোগ দেওয়ার পরই তাঁকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়। জাতীয় মুখপাত্র করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের। এরপর রাজ্যসভার সাংসদ করা হয় সুস্মিতাকে। ২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর যখন তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ধরেছে, সেই সময় পাশে থাকলেন না সুস্মিতাও।
এদিকে, সুস্মিতাকে দলে নেওয়া হয়েছিল অসমে তৃণমূলের বিস্তারের জন্য। তাঁর হাতেই অসমে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া ছিল। তাঁর ইস্তফায় সর্বভারতীয় স্তরেও ভাঙন ধরল তৃণমূল কংগ্রেসে। কার্যত ঘরে-বাইরে এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
বদলাচ্ছে সংসদের সমীকরণ-
লোকসভা ও রাজ্যসভা- সংসদের দুই কক্ষেই এখন সাংসদদের নিয়ে অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ আলাদা ফ্রন্ট হিসাবে এনডিএ-কে সমর্থন করতে প্রস্তুত। এদিকে রাজ্যসভাতেও চাপে তৃণমূল। ১৩ জন সাংসদ রয়েছে তৃণমূলের রাজ্যসভায়। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যার প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই সুখেন্দু শেখর ও সুস্মিতা দেব ইস্তফা দেওয়ায় সেই সংখ্যা ১১-তে নেমে এসেছে। কোয়েলও ইস্তফা দিতে পারেন। ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১০-এ নেমে আসবে।
