
নয়াদিল্লি: ভোটমুখী বাংলার জন্য ফের সুখবর। একই সঙ্গে কপাল খুলল ঝাড়খণ্ডেরও। পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে বড়সড় পদক্ষেপ। পণ্য পরিবহণে গতি আনতে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের মধ্যে দুটি বড় মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের অনুমোদন। অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। বাস্তবায়িত হবে মোট ৪,৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টও করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বর্তমান রেললাইনের উপর অতিরিক্ত চাপের বোঝা কমানোর পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের রাস্তা যাতে আরও সুগম হয় সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে এই এই মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্প। ওয়াকিবহাল মহলের ধারনা এর ফলে বিশেষ করে ঝাড়খণ্ডের কয়লা-সহ অন্যান খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চল থেকে পশ্চিমবঙ্গে কাঁচামাল পরিবহণ আরও দ্রুত করা যাবে। পুরো কাজ হবে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম গতি শক্তি’ মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে।
প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের শিল্পাঞ্চলগুলিকে যুক্ত করতে নতুন লাইন ও ডাবলিংয়ের কাজ করা হবে বলেও জানা যাচ্ছে। বিশেষ করে আসানসোল এবং সীতারামপুর সংলগ্ন রেল করিডোরে এর প্রভাব পড়বে, যা পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত রেল রুট বলেই পরিচিত। এই রুটে মূলত কয়লা, সিমেন্ট, লোহা পরিবহণ করা হয়। সাঁইথিয়া-পাকুর সেকশনে চতুর্থ রেললাইন নির্মাণ করা হবে। চতুর্থ রেললাইন তৈরি করা হবে সাঁতরাগাছি-খড়গপুর সেকশনেও। নতুন ট্র্যাক তৈরি হলে লজিস্টিক খরচ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। গতি আসবে শিল্পক্ষেত্রে। যার হাত ধরে ওই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Boosting rail connectivity and capacity in eastern India!
Cabinet has approved multitracking projects covering 5 districts of West Bengal and Jharkhand. These projects will enhance efficiency, reduce congestion and strengthen connectivity across these states. They will also…
— Narendra Modi (@narendramodi) March 10, 2026
সরকারি সূত্রে খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের মোট ৫টি জেলা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বে। এর ফলে ভারতীয় রেলের মানচিত্রে নতুন করে ১৯২ কিলোমিটার পথ যুক্ত হবে। উপকৃত হবেন ৫,৬৫২টি গ্রামের মানুষ। প্রকল্পের কাজ চলাকালীন তো বটেই, শেষ হওয়ার পরেও বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া রেললাইনের ক্ষমতা বাড়লে ভবিষ্যতে যাত্রীবাহী ট্রেনের গতিবেগও অনেকটাই বাড়বে। চলতে পারে আরওবেশ কিছু নতুন ট্রেন। অন্যদিকে রেলপথে পণ্য পরিবহণ বাড়লে রাস্তায় ট্রাকের চাপ অনেকটাই কমবে। একইসঙ্গে এই রেল প্রকল্পের ফলে পর্যটন মানচিত্রে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও উন্নত হবে। তালিকায় শান্তিনিকেতন, তারাপীঠের মতো জায়গায়ও থাকছে।