
নয়া দিল্লি: বারংবার ডাক্তারি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস। বাতিল হচ্ছে পরীক্ষা। অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ। এবার পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবেই বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী বছর থেকে নিট পরীক্ষা (NEET) অনলাইনে হবে। আজ, শুক্রবার এই ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)।
আজই ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) ঘোষণা করে যে আগামী ২১ জুন পুনরায় নিট পরীক্ষা হতে চলেছে। এরপরই এ দিন সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী জানান যে আগামী বছর থেকে কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT) ব্যবস্থা চালু হবে। অনলাইন মোডে নিট পরীক্ষা হওয়া উচিত।
গত ৩ মে নিট পরীক্ষা হয়েছিল। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা বাতিল করে দেওয়া হয়। তার বদলে আগামী ২১ জুন পরীক্ষা হবে। আগামী ১৪ জুন অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হবে পরীক্ষার্থীদের।
এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী জানান যে নিট ইউজি পরীক্ষা বাতিলের পর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগের পরীক্ষায় যে সকল পরীক্ষার্থী বসেছিলেন, তাদের এক্সামিনেশন ফি ফেরত বা রিফান্ড করে দেওয়া হবে। ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষায় বসার জন্য কোনও চার্জ দিতে হবে না।
পরীক্ষার্থীরা ফের একবার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য নিজেদের পছন্দের শহর বেছে নিতে পারবেন। এক সপ্তাহ সময়সীমা দেওয়া হবে পরীক্ষাকেন্দ্র বাছাইয়ের জন্য। আজ বিকেলেই বিস্তারিত নোটিস দেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন যে রি-এক্সামিনেশনে পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে ওএমআর শিট পূরণ করার জন্য।
নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা নিয়েও মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী। তিনি পরীক্ষার্থীদের কাছে আর্জি করেন যে নিট নিয়ে কোনও ধরনের বিতর্ক বা জল্পনায় যেন তারা কর্ণপাত না করে। ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, গত ৩ মে পরীক্ষা হয়েছিল। গত ৭ মে এনটিএ-র কাছে অভিযোগ আসে যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্র্যাকটিস প্রশ্নপত্রের অনেকাংশ মিলে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষা দফতর তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়। ১২ মে জানা যায় যে গেস পেপারের নামে নিট পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্র লিক করা হয়েছিল। সরকারের ব্যর্থতা মেনে তিনি বলেন যে ভুয়ো বা প্রতারক পরীক্ষার্থীদের জন্য যোগ্য পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনও সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ মেনেই এবারের পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সরকার গাফিলতি স্বীকার করছে এবং সিস্টেম শোধরানোর চেষ্টা করবে। ভবিষ্যতে যাতে পরীক্ষায় এই ধরনের অসৎ কাজ না হয়, তাও নিশ্চিত করার কথা বলেন। এর জন্য জনগণের সমর্থনের কথাও বলেন। পাশাপাশি জানান যে এবারের প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সিবিআই তদন্ত করছে। অভিযুক্ত একজনকেও ছাড়া হবে না।