
নয়া দিল্লি: যুদ্ধ থামছে না, বাড়ছে উদ্বেগ। শুধু ইরান বা আমেরিকা নয়, বিশ্বের সমস্ত দেশই চিন্তিত, কারণ যে কোনও সময়েই এলপিজি (LPG) ও জ্বালানি সঙ্কট (Fuel Shortage) তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আতঙ্কিত সাধারণ মানুষও। এই সময়েই বড় আপডেট দিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের ভাঁড়ারে কত জ্বালানি রয়েছে, তা জানানো হল।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি ও তেল মজুত রয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন জ্বালানি বা তেলের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্কিত বা চিন্তিত না হন। ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ায় অস্থির পরিস্থিতিতেও ভারতের শক্তির ভাণ্ডার স্থিতিশীল রয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পেট্রোলিয়াম ও ন্যাচরাল গ্য়াস মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রুড তেল ইতিমধ্যেই মজুত রয়েছে। অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলি আগে থেকেই আমদানি করে রেখেছে, যাতে সরবরাহে কোনও খামতি বা ঘাটতি না থাকে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর তরফে বিবৃতি প্রকাশ করে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের সংঘাত শুরুর পরই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের তেল ও জ্বালানির চাহিদার প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সরবরাহ হয়। এর জেরে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেয়। তবে জ্বালানিবাহী ভারতীয় জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ভারত ৪০টিরও বেশি গ্লোবাল সাপ্লায়ারের কাছ থেকে ক্রুড তেল কেনে। ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি কিনছে। দেশের অন্দরেও যে রিফাইনারি বা তৈল পরিশোধনাগারগুলি রয়েছে, সেগুলিও ১০০ শতাংশ কাজ করছে।
সব মিলিয়ে ভারতের কাছে মোট ৭৪ দিনের রিসার্ভ রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। ক্রুড তেল, রিফাইন্ড প্রোডাক্ট ও স্ট্র্যাটেজিক রিসার্ভ এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
কেন্দ্রীয় আধিকারিক সূত্রে খবর, যুদ্ধের ২৭ দিনেও ভারতের কাছে প্রায় দুই মাসের জ্বালানি মজুত ছিল সাধারণ মানুষদের জন্য। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, তাই আগামী কয়েক মাসে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে দেশের কোথাও পেট্রোল, ডিজেল বা এলপিজি সঙ্কট নেই। সমস্ত জায়গাতেই জ্বালানি মজুত রয়েছে।
ভারত বিশ্বের সবথেকে বড় জ্বালানি পরিশোধক দেশ। তবে পেট্রোলিয়াম পণ্যের অধিকাংশই আমদানি করা হয়। যুদ্ধের মাঝে সাময়িক একটা অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি হলেও, বর্তমানে আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ থেকে এলপিজি কিনেছে এবং তা ইতিমধ্যেই ভারতের দিকে রওনা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন কোনও প্রকার বিভ্রান্তিকর তথ্যে বিশ্বাস না করেন এবং অযথা আতঙ্কিত না হন, তার জন্য অনুরোধ করেছে কেন্দ্র।