
নয়া দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (PM Narendra Modi) একটি জ্যাভলিন উপহার দিয়েছিলেন সোনা জয়ী ক্রীড়াবিদ নীরজ চোপড়া (Neeraj Chopra)। সেই জ্যাভলিনকে নিলামে তোলা নিয়ে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে, প্রধানমন্ত্রীর উপহার এভাবে নিলামে তোলা নতুন কোনও ঘটনা নয়। আগেও এরকম বহু উপহার নিলামে উঠেছিল। কিন্তু, এর নেপথ্যে ছিল জনকল্যাণমূলক চিন্তা-ভাবনা। সম্প্রতি, এমনই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্টে। জ্যাভলিন বিতর্ক, উপহার নিলামে তোলা নিয়ে মোদীর চিন্তা-ভাবনাকে ওই রিপোর্টে ব্যাখ্যা করেছেন লেখক সুহেল শেঠ।
ওই রিপোর্টে সুহেল শেঠের দাবি, জ্যাভেলিন নিয়ে যে আক্রমণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে, তা খুব একটা লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের মূল্যবান উপহার দেওয়া হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সেগুলি সংরক্ষণ করা হয়েছে কিংবা ধুলোর স্তর পড়েছে উপহারগুলিতে। তবে, নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রে উপহারগুলি নিলামে তুলে তার অর্থ জনকল্যাণে কাজে বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই এই উদ্যোগ শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পাওয়া অসংখ্য স্মারক ও উপহার জমিয়ে না রেখে নিলামে তোলা হয়। সেই নিলাম থেকে সংগৃহীত অর্থ কন্যাশিশুদের শিক্ষার কাজে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।হাজার হাজার উপহার নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সেই অর্থ ‘কন্যা কেলাভানি নিধি’-তে দেওয়া হয়েছে। গুজরাটে মূলত মেয়েদের স্কুলমুখী করা এবং প্রত্যন্ত এলাকার অভিভাবকদের মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করাই হল ‘কন্যা কেলাভানি নিধি’-র উদ্দেশ্য। সেখানেই উপহার নিলামের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
When you give all you get, for causes you believe in… @narendramodi @PMOIndia pic.twitter.com/qS54qR6GIn
— SUHEL SETH (@Suhelseth) September 25, 2026
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও উপহার নিলামের সেই ধারা বজায় থেকেছে। এমনই উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। একইসঙ্গে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয় ‘নমামি গঙ্গে’ কর্মসূচি। গঙ্গার দূষণ কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর পাওয়া বিভিন্ন উপহার নিলামের অর্থ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাল, তলোয়ার, ভাস্কর্য, বিশিষ্ট ক্রিকেটারদের সই করা ব্যাট, অলিম্পিক ক্রীড়াবিদদের দেওয়া জ্যাভেলিন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ছবি ও স্মারক-একাধিক সামগ্রী নিলামে তোলা হয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ওই রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ন্যাশনাল গ্যালারি অব মডার্ন আর্টেও এই ধরনের উপহার প্রদর্শন ও নিলামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনও কোনও সামগ্রীর ভিত্তিমূল্য মাত্র ২০০ টাকা থেকেও শুরু হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র বিপুল অর্থ খরচ করতে সক্ষম ব্যক্তিরাই নন, সাধারণ মানুষকেও এই নিলামে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে আসে বলে মনে করেছেন লেখক। প্রথমত, ধারাবাহিকতা। প্রায় ২৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী-দুটি ভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকেও উপহার নিলামে তুলে জনকল্যাণে অর্থ ব্যবহারের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া উপহারকে জনকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। শ্রদ্ধা বা সম্মানের প্রতীক হিসেবে দেওয়া কোনও সামগ্রী নিলামে বিক্রি হওয়ার পর সেই অর্থ যখন শিক্ষা, নদী বা অন্য কোনও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়, তখন ব্যক্তিগত সম্মানের সঙ্গে সরকারি প্রকল্পের একটি প্রত্যক্ষ যোগ তৈরি হয়।
তৃতীয়ত, সরকারি প্রকল্পে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের একটি ভিন্ন পথ তৈরি হয়। ‘নমামি গঙ্গে’-র মতো প্রকল্পে শুধুমাত্র সরকারি বরাদ্দের ধারণার বাইরে গিয়ে নিলামে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকদেরও অর্থ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।এই প্রেক্ষাপটেই নীরজ চোপড়ার দেওয়া জ্যাভেলিন নিলামের বিষয়টিকেও দেখা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রীড়াবিদদের ব্যবহৃত বা স্বাক্ষর করা স্মারক নিলামে তোলার নজির রয়েছে।
সুতরাং, প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জ্যাভলিন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আদৌ কোনওভাবে ধোপে টিকল না। ব্যক্তিগত সম্মান হিসেবে পাওয়া স্মারক নিজের সংগ্রহে না রেখে নিলামে তোলা এবং সেই অর্থ জনকল্যাণে ব্যবহারের যে প্রক্রিয়া গুজরাটে শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে জাতীয় স্তরেও অব্যাহত রাখা হয়েছে।