
নয়া দিল্লি: কালিয়াচকের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের। মালদহের জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ করল সুপ্রিম কোর্ট। আরও নজরদারির প্রয়োজন ছিল, মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী।বুধবার রাতে মালদহের কালিয়াচকের জুডিশিয়াল অফিসাররা যেভাবে হেনস্থার মুখে পড়ে, বৃহস্পতিবার সকালে গোটা বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনা হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চেই এই বিষয়টির উত্থাপন হয়। কালিয়াচকের ঘটনায় প্রশাসনের প্রতি অত্যন্ত বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট। স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিপি-র কাছে রিপোর্ট চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
কালিয়াচকের ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট। এদিন মামলায় রাজ্যের তরফ থেকে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল, গোপাল শঙ্করনারায়ণ। কমিশনের তরফ থেকে ডিএস নাইডু। বুধবার সন্ধ্যায় কালিয়াচকে হওয়া গোটা পরিস্থিতির বর্ণনা দেন কমিশনের আইনজীবী। সওয়াল করেন এজি তুষার মেহেতা।
কালিয়া চকের গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাজ্য ও কমিশনকে নিতে হবে। কালিয়াচকের ঘটনায় সিবিআই অথবা এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শোকজ করা হয়েছে মালদহের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে। কালিয়াচকের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “এই ঘটনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার উদাহরণ। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জানাতে হবে, কেন বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তারা বিচারকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেননি?” পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের ভূমিকায় বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট। তাঁদের শোকজ করা হয়েছে।”
এডভোকেট জেনারেল বলার চেষ্টা করেন, জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজ্য কমিশনকে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত আপনার রাজ্যে সবাই রাজনীতির ভাষায় কথা বলেন এবং সব থেকে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। আপনি কি ভাবছেন কারা এসব করছে আমরা বুঝি না। আমরা রাত দুটো পর্যন্ত সব কিছুর উপর নজর রেখেছি। অত্যন্ত অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল তখন আবেদন করেন, ‘Complete Breakdown of Law and Order’ , এই শব্দবন্ধটা বাদ দেওয়ার জন্য। কপিল সিব্বল বলেন, “এই লাইনটা বাদ দিন প্লিজ, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, “আমরা বিষয়টা মাথায় রাখছি। পরে দেখব।” কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু তখন বলেন, “এটাই নগ্ন সত্য।” রাজ্যের তরফে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এখন সবাই সাধু সাজছে।” কল্যাণ অভিযোগ করেন, “প্রত্যেকদিন প্ররোচনামূলক কথা বলছে।”
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “কালিয়াচকের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে প্রাপ্ত চিঠির প্রেক্ষিতে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেই মর্মে মুখ্য সচিব, ডিজেপি, জেলাশাসক এবং এসএসপি-কে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।