
নয়াদিল্লি: নর্দার্ন বুলেট ট্রেন করিডর নিয়ে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার এ কথা জানালেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। প্রস্তাবিত এই রেল নেটওয়ার্ক চালু হলে উত্তর প্রদেশে প্রথমবার হাইস্পিড রেল পরিষেবা চালু হতে পারে। এর ফলে দিল্লি থেকে বারাণসী পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৩ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট। সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই করিডর দেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শহরগুলির মধ্যে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমবে-
বুলেট ট্রেন চালু হলে বিভিন্ন শহরের মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এ প্রসঙ্গে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “বুলেট ট্রেন চালু হলে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমবে। দিল্লি থেকে কানপুর পৌঁছতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। দিল্লি থেকে আগরা ৫৯ মিনিট। দিল্লি থেকে লখনউ ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট। বারাণসী থেকে লখনউ যেতে লাগবে ১ ঘণ্টা ২১ মিনিট এবং বারাণসী থেকে পটনা যেতে সময় লাগবে মাত্র ১ ঘণ্টা। অন্যদিকে, বারাণসী থেকে দিল্লি পৌঁছতে লাগবে ৩ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট। বারাণসী থেকে প্রয়াগরাজ ৩৩ মিনিট এবং বারাণসী থেকে আগরা যেতে সময় লাগবে ২ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট।”
তিনি আরও বলেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ নর্দার্ন করিডর আগামী বছরগুলিতে দেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে। এর ফলে মধ্যবিত্ত পরিবার, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষ, যুবসমাজ, ক্ষুদ্র উদ্যোগপতি এবং MSME ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।”
বিমানযাত্রার তুলনায় কম থাকবে ভাড়া-
রেলমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ বুলেট ট্রেনকে শুধুমাত্র ধনী ও বিত্তশালী যাত্রীদের পরিষেবা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সরকারের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনায় কৃষক, মধ্যবিত্ত পরিবার এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষের স্বার্থও গুরুত্ব পাচ্ছে। অশ্বিনী বৈষ্ণবের ইঙ্গিত, দিল্লি থেকে বারাণসী পর্যন্ত বুলেট ট্রেনের ভাড়া বিমানভাড়ার তুলনায় কম রাখা হবে। এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ এই দ্রুতগতির রেল পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
২০২৯ সালের মধ্যে গঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা-
সম্প্রতি বারাণসীতে গঙ্গার উপর একটি নতুন সেতু নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, সেতুটির নাম রাখা হবে ‘নমো ব্রিজ’। প্রায় ২.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণে আনুমানিক ২,৬৫৭ কোটি টাকা খরচ হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
সেতুটির উপরের ডেকে থাকবে ছয় লেনের রাস্তা। অন্যদিকে, নীচের ডেকে থাকবে চারটি রেললাইন। এই প্রকল্পের ফলে কাশী রেলস্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি কাশী বিশ্বনাথ মন্দির এবং নমো ঘাটে যাতায়াতও আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।