Delimitation Bill Explained: ভোটের ‘জিওগ্রাফি’ বদলে দেবে আসন পুনর্বিন্যাস? কেন দক্ষিণ ভারতের এত আপত্তি?

Delimitation Bill impact on South India Lok Sabha seats: কেন্দ্রের প্রস্তাবিত মডেল অনুযায়ী, এই বিল আইনে পরিণত হলে প্রতিটি রাজ্যের আসন সংখ্যা প্রায় ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। বিরোধীদের অভিযোগ, এতে দক্ষিণ ভারতের আসনসংখ্যা উত্তর ভারতের তুলনায় অনেকটাই কমে যাবে। দক্ষিণ ভারতকে বঞ্চিত করা হবে। 

Delimitation Bill Explained: ভোটের জিওগ্রাফি বদলে দেবে আসন পুনর্বিন্যাস? কেন দক্ষিণ ভারতের এত আপত্তি?
সংসদে তুমুল তরজা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে।Image Credit source: TV9 বাংলা

|

Apr 16, 2026 | 2:13 PM

নয়া দিল্লি: আজ থেকে সংসদে বসছে বিশেষ অধিবেশন। পেশ করা হল তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল- ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল। এর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিলটি, যা নিয়ে সবথেকে বেশি বিতর্ক হচ্ছে, তা হল লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল (Delimitation Bill)। এই বিল পাশ হয়ে আইনে পরিণত হলে, সমস্ত রাজ্যের লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত বিল পাশ হলে লোকসভায় বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হবে। বিরোধীদের দাবি, এই বিল উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে বিভাজন তৈরি করবে। সরকারের বিরুদ্ধে ‘ট্রিক’ খেলার অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।

২০২৩ সালে এর আগে এই বিল আনা হয়েছিল। সেই সময় বিল পাশও হয়ে যায়। তখন বলা হয়েছিল, ২০২৭ সালের জনবিন্যাসের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হবে। তবে এখন কেন্দ্রের তরফে ফের একবার এই বিলেই কিছু পরিবর্তন এনে ফের বিল পেশ করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, সেই বিলে বলা হচ্ছে যে ২০১১ সালের আসন পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতে এই আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। এতে আসন সংখ্যা বেড়ে ৮৫০ হবে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার জন্য সমস্ত রাজ্যেরই আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

এই বিলে সংবিধানের ৮১ অনুচ্ছেদ সংশোধন করারও কথা বলা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, লোকসভা সর্বোচ্চ ৮১৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে, যারা রাজ্যগুলির আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন এবং সর্বোচ্চ ৩৫ জন সদস্য থাকবেন, যারা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রতিনিধিত্ব করবেন।

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত মডেল অনুযায়ী, এই বিল আইনে পরিণত হলে প্রতিটি রাজ্যের আসন সংখ্যা প্রায় ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। বিরোধীদের অভিযোগ, এতে দক্ষিণ ভারতের আসনসংখ্যা উত্তর ভারতের তুলনায় অনেকটাই কমে যাবে। দক্ষিণ ভারতকে বঞ্চিত করা হবে।  যদিও কেন্দ্র এই অভিযোগ উড়িয়ে জানিয়েছে যে আসন পুনর্বিন্যাস হলে, দক্ষিণ ভারত উপকৃত হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেছেন, বিরোধীরা দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে জনসংখ্য়া ও পরিবার পরিকল্পনার তথ্য দিয়ে।

কেন দক্ষিণী রাজ্যগুলির আপত্তি?

ডিএমকে সহ দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি এই আসন পুনর্বিন্যাসের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য, যদি জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হয়, তাহলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি বঞ্চিত হবে। সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব কমবে, কারণ উত্তর প্রদেশ, বিহারের মতো রাজ্যগুলির তুলনায় দক্ষিণ ভারতে কর্নাটক, তামিলনাড়ু, কেরলের জনসংখ্যা কম। জনসংখ্যার বিচারে আসন পুনর্বিন্যাস হলে উত্তর ভারতের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে সংসদে, দক্ষিণ ভারতের সাংসদ সংখ্যা কমে যাবে। তাদের অভিযোগ, যে রাজ্যগুলি পরিবার পরিকল্পনা, তাদের পুরস্কারের বদলে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, আর যারা পরিবার পরিকল্পনা করেনি, তারাই লাভবান হচ্ছে। কোনও একটি রাজ্য বেশি প্রাধান্য পেলে, তা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী হবে।

শোনা যাচ্ছে, সরকার সমস্ত রাজ্যের আসন সংখ্যাই ৫০ শতাংশ করে বাড়ানোর প্রস্তাব দিতে পারে। এটা সার্কুলার বিলে উল্লেখ নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলাদাভাবে ঘোষণা করতে পারেন।

Follow Us