
নয়া দিল্লি: সোমবার এসআইআর মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই সময় আদালতের অন্দরে দু’পক্ষের বাদানুবাদ। চলছিল সওয়াল-জবাব। একদিকে যখন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী তোপ দেগে অভিযোগ করেছেন, মুখ্য়মন্ত্রী ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন। পাল্টা আবার আইনজীবী কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকেই। এমনকী, ফের একবার উঠে আসে কালিয়াচকের প্রসঙ্গ।
কী ঘটেছিল এ দিন আদালতে?
এ দিন, সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল-জবাব চলছিল। সেই বিচারপতিদের সামনে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডু বলেন, “সিআরপিএফ (CRPF) মারতে আসতে পারেন, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন।” বস্তুত, নাকাশিপাড়ার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গিয়েছিল, ২০০ কোম্পানি সিআরপিএফ আসছে হামলা করার জন্য। সেই ভিডিয়োটিই এ দিন কোর্টে দেখান কমিশনের আইনজীবী। একই সঙ্গে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও আদলতে সওয়াল করেন, কালিয়াচকে বিচারকদের উপর হামলার ঘটনা। কীভাবে একজন মহিলা বিচারক নিজের সন্তানকে দেখে রাখার কথা কাতর স্বরে বলছিলেন, সেই সবটা তুলে ধরেন তিনি।
এখানে উল্লেখ্য, মালদহের কালিয়াচকে মধ্যরাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়েছিল সাত বিচারককে। এমনকী সেখান থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও হামলার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। এবার প্রকাশ্যে এল একটি অডিয়ো। বিচারকের মুখে শোনা যাচ্ছে কাতর আর্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সেই অডিয়ো। অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি TV9 বাংলা। অডিয়োতে শোনা যাচ্ছে, নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন ওই মহিলা বিচারক। সন্তানের জন্যও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তিনি। বলছেন, “আমার পাইলট কার নেই। দুর্ঘটনায় পড়েছে পাইলট কার। আমি একা একা যাচ্ছি। ওরা ইট-বাঁশ নিয়ে আসছে। আমার কিছু হয়ে গেলে, হাইকোর্ট যেন আমার সন্তানকে দেখে।”
এরপর পাল্টা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও একটি ভিডিয়ো তুলে ধরেন। গত সপ্তাহে ড্রোন দেখতে পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক হেলিকপ্টারে ওঠার আগের মুহূর্তে দেখতে পান সামনেই ড্রোনটি উড়ছে। তখনই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এরপরই তিনি বলেন, “আমি যখন মিটিং করে আসছিলাম মালদহ থেকে। আমার হেলিকপ্টারের সামনে ড্রোন ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ধাক্কা খেলে হেলিকপ্টারটা ধ্বংস হত। কারা ওড়াচ্ছিল? বিহারের তিনজন ধরা পড়েছে। টার্গেটটা কী? আমার জীবন কাড়ার জন্য? কেড়ে নিন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু যতক্ষণ বেঁচে থাকব, আপনাদের বিরুদ্ধে গলা ফাটাব। আমার মুখ বন্ধ করা যবে না।”