
নয়াদিল্লি: ১০০টি আসনে জোর করে হারানো হয়েছে। ভোটের ফল ঘোষণার পরই এই দাবি করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে আইনি পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিলেন। তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিষয়টি দেখতে বলেছিলেন। আর সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানিতে ইলেকশন পিটিশন দাখিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন কল্যাণ। শীর্ষ আদালত এর জন্য ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন (IA) করতে বলেছে। আর শুনানি শেষে কল্যাণ বললেন, তাঁরা এবার ইলেকশন পিটিশন দাখিল করবেন। সদ্য সমাপ্ত ভোটে মানুষের রায় প্রতিফলিত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
কী বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা ভোটে বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন। আর তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। দুই দলের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবহার ৩২ লক্ষের মতো। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কল্যাণ জানান, তাঁরা ইলেকশন পিটিশন দাখিল করবেন। একাধিক কেন্দ্রে বিবেচনাধীন ভোটারের তুলনায় জয়ের ব্যবধান কম জানিয়ে তিনি বলেন, “এই নিয়ে ইলেকশন পিটিশন দাখিল করব।” ভোটের ফল নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “এই ভোটে মানুষের রায় আসেনি। মার্জিন কী করে বোঝা যাবে।” ইলেকশন পিটিশন দাখিল নিয়ে তিনি বলেন, “৪০-৫০টি আসনে গণনার সময় মেরে-ধরে বার করে দিয়েছে। এই নিয়েও ইলেকশন পিটিশন দাখিল করব। তারপর শুনানিতে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরব।”
মমতার পরাজয় নিয়ে কী বললেন কল্যাণ?
গণনার সময় কারচুপির অভিযোগ তুলে কল্যাণ বলেন, “ভোটের সময় বাইরে সিসিটিভি বসেছিল। সবাই দেখতে পেয়েছিল। গণনার সময় ভেতরে সিসিটিভি ছিল। তাহলে বাইরে কেন তা দেখানো হবে না? সংবাদমাধ্যমের লোকজনকে পর্যন্ত দেখতে দেওয়া হয়নি। গণনার সময় আমাদের এজেন্টদের মেরেধরে বার করে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর্যন্ত মেরে, ঠেলেঠুলে বের করে দিয়েছে। বের করে দেওয়ার আগে পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতছিলেন। ওদের টার্গেটই ছিল নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে জিততে হবে।”
তৃণমূলের ৮০টি আসনে জয় নিয়ে তিনি বলেন, “যেখানে আমরা ১৫-২০ হাজার ভোটে জিতছিলাম, সেখানে এসব করার রিস্ক নেয়নি। কিন্তু, যেখানে ৪-৫ হাজার ভোটে এগিয়েছিলাম, সেখানে মেরেধরে বের করেছে।”
এদিন নবান্ন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছে, বিগত সরকারের চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। এই নিয়ে এদিন কল্যাণ বলেন, “তাহলে এতদিনে মানলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পগুলি জনকল্যাণকর।” সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কল্যাণ বলেন, “সীমান্তের জমি কেন্দ্রের। রাজ্যের নয়। ওরা নাটুকে কথাবার্তা বলছে।”
‘লড়াই করে ফিরে আসব’
১৫ বছর পর বাংলায় ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল। ফল ঘোষণার পরই মমতা বলেছিলেন, তাঁরা ফিরে আসবেনই। এদিন কল্যাণও বললেন, “আমরা তো লড়াই করে আসা লোক। আমরা খারাপ দিন দেখেছি। ভালো দিন দেখেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আবার লড়াই করে ফিরে আসব।”
সিপিএমকে-ও এদিন নিশানা করেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাম-অতিবামদের আহ্বান জানিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু, সেই আহ্বান খারিজ করেছে বামেরা। তা নিয়ে এদিন কল্যাণ বলেন, “দিদি অনুরোধ করেছিলেন। আমরাও তো বলতে পারি, খুনি ধর্ষণকারী সিপিএমের সঙ্গে কেন যাব? আসলে সিপিএমের সঙ্গে বিজেপির আঁতাত আছে। বিজেপি টাকা দিয়েছে। সিপিএম, আইএসএফ লড়েছে।”