
নয়াদিল্লি ও কলকাতা: এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংসদে বাদল অধিবেশনের শুরুতেই এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। প্রথমে কথা ছিল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক হবে। পরে ঠিক হয়, বঙ্গভবনে বৈঠক হবে। কিন্তু, বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য গত ২৮ জুলাই দিল্লি যেতে পারেননি শুভেন্দু। অবশেষে বাদল অধিবেশনের তৃতীয় সপ্তাহে এসে চূড়ান্ত হল, বঙ্গভবনে মঙ্গলবার এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। আগামিকাল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এনসিপিআই সাংসদদের বৈঠকে ২০ জন সাংসদ থাকবেন, নাকি সংখ্যাটা তার চেয়ে বেশি হবে, তা নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
গত ২৮ জুলাই বঙ্গভবনে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল শুভেন্দুর। বাংলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য তিনি ওইদিন দিল্লি যেতে পারবেন না জানাতেই আগের দিন রাতে নবান্নে পৌঁছে গিয়েছিলেন এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতে সাড়ে আটটা থেকে ৯টা পর্যন্ত সুদীপের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু। যদি বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে দু’পক্ষই মুখ খোলেননি।
ওই বৈঠকের পর এবার দিল্লিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছেন শুভেন্দু। এনসিপিআই সাংসদরা এর আগে এনডিএ-র বৈঠকে ডাক পেয়েছেন। কিন্তু, তাঁদের লোকসভায় এনসিপিআই সাংসদদের স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি স্পিকার ওম বিড়লা। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, কী হবে এনসিপিআই-র ভবিষ্যৎ? আগামিকালের বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এলাকার পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ একাধিক এনসিপিআই সাংসদের।মুখ্যমন্ত্রীকে সে বিষয়ে জানাবেন তাঁরা। এমনকি কয়েকজন সাংসদ এখনও নিজের এলাকায় ঢুকতে পারছেন না বলে জানা যাচ্ছে। আলোচনা হতে পারে তা নিয়েও।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আগামিকালের বৈঠক নিয়ে এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “বিজেপির সঙ্গে মিশে যাবে, এই কথাটা কেউ বলেছে বলে আমার মনে হয় না। ভবিষ্যৎ কী হবে জানি না। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আমরা কখনও ২ জন, কখনও ৩ জন সাক্ষাৎ করেছি এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে। প্রত্যেকে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী তহবিল নিয়ে যে সাপোর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটা নিয়ে আলোচনা করতে দেখা করেছি।”
খোঁচা দিলেন কুণাল ঘোষ-
এনসিপিআই সাংসদদের খোঁচা দিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “এনসিপিআই সাংসদরা কোথায় আছেন? যোগাযোগ করছেন বিজেপির সঙ্গে। আর লোকসভা টিভিতে পরিচয় লেখা থাকছে AITC। তাহলে তাঁরা আছেন কোথায়? এর থেকে তো গিরগিটিকে চিহ্নিত করা সোজা।” এরপরই তাঁর প্রশ্ন, “কেন তাঁদের সংসদ সদস্য খারিজ হবে না? বিজেপি প্রোটেকশন দিয়ে রাখছে। তাই তাঁরা বিজেপির কাছে ঘুরঘুর করছেন।”
আগামিকালের বৈঠক নিয়ে কী বললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়?
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আগামিকাল এনসিপিআই সাংসদদের বৈঠকে কি বাড়ছে কাকলি শিবিরের সংখ্যা? জল্পনা উস্কে দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “২০ জন থাকবেন বলে আমিও শুনেছি। তার থেকে যদি বেড়ে যায়, সেটা কালকে বোঝা যাবে। দেখুন তাঁরা একটা রাজনীতিগত অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আমার থেকে সিনিয়র, অনেকেই আমার বড় দাদার মতো। আবার বয়সের অনেক পার্থক্য থাকলেও অনেকে বন্ধু।”