
নয়াদিল্লি: তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-এ যোগ দিয়েছেন। এবার নিজের নিজের লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে কেউ পৌঁছে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে। কেউ বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে। শুক্রবার বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় দেখা করেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। আর মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া দেখা করেন অমিত শাহর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী কিংবা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে কী বলছেন তাঁরা?
কী বললেন শতাব্দী রায়?
এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর কয়েকদিন আগে এনডিএ-র বৈঠকে ডাক পেয়েছিলেন শতাব্দী, জুনরা। তবে সংসদে এখনও তাঁদের নামের পাশে তৃণমূল সাংসদই লেখা থাকছে। এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে এখনও স্বীকৃতি দেননি লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী।
কী নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হল? এই প্রশ্নের উত্তরে শতাব্দী বলেন, “আমাদের অবস্থান নিয়ে কথা বললাম। আমাদের কে কী বলছেন, কে কী চাইছেন, তা নিয়ে কথা বললাম। আমার লোকসভা কেন্দ্র নিয়ে কথা বললাম। আমার সংসদীয় এলাকা নিয়ে কিছু ভাবনা রয়েছে। যেটা বড় আকারের। সেটা তাঁর সঙ্গে শেয়ার করেছি। উনি হ্যাঁ বলেছেন। তবে পুরো প্রোজেক্টটা ঠিকঠাক হলে আমি প্রকাশ্যে আনব। আমার ভাবনটা উনি মন দিয়ে শুনেছেন, বারবার জিজ্ঞাসা করেছেন। এখন পশ্চিমবঙ্গের কী অবস্থা, কী দেখছি, আগে কী দেখেছি, সেগুলো আলোচনা হয়েছে।”
আপনি কি বিজেপিতে যাবেন? প্রশ্ন শুনেই তাঁর সপাটে জবাব, “শাহরুখ খানের সঙ্গে ছবি তোলা মানেই শাহরুখ খানের সঙ্গে সিনেমা করছি, যেমন হবে এটা তেমনই। উনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আগেও দেখা করেছি। এখনও দেখা করছি। এখন আরও কাজের জন্য দেখা করছি।”
কী বলছেন জুন মালিয়া?
কয়েকদিন আগেই সংসদের বাইরে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে জুন মালিয়ার আলাপচারিতার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। আর গতকাল অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেন মেদিনীপুরের সাংসদ জুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় শাহর সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি দিয়ে জুন লিখেছেন, ‘এই সাক্ষাৎ আমাকে নতুন উদ্যম ও সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমার লক্ষ্য, মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রকে শিল্প, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং উন্নয়নের এক শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত করা। শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা, পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমার অঙ্গীকার।’
তাঁর লোকসভা কেন্দ্রের আদিবাসীদের উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়ন যে তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার, সেকথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন জুন। ফুটবল-সহ খেলাধুলোর উন্নয়নেও জোর দিতে চান। সবশেষে তাঁর বার্তা, ‘এই যাত্রা সবে শুরু হয়েছে। সকলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা অবশ্যই মেদিনীপুরবাসীর জন্য উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব।’